Date : 2022-10-02

দলবদলু বিধায়ক! বিতর্ক উসকে দিলেন বাবুল।

সঞ্জু সুর, সাংবাদিকঃ সবে শপথ নিয়েছেন তিনি। তারপরেই সাংবাদিক সম্মেলনে সেই পুরোনো বিতর্ক আরো একবার উসকে দিলেন বাবুল সুপ্রিয়। এক দলের টিকিটে জিতে অন্য দলে চলে যাওয়াকে অনৈতিক বলেই মনে করেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে যখন বাবুল এই কথা বলছেন তখন ঠিক তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিজেপির টিকিটে জিতে আসা কালীয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়।

রাজ্যে গত প্রায় এগারো, বারো বছর ধরে একটা বিষয় নিয়ে শাসকদলের সমালোচনা করে চলেছেন বিরোধীরা। কখনো বামেরা, কখনো কংগ্রেস এবং গত বিধানসভা নির্বাচনের কিছুটা পর থেকে বিজেপি। এই সবকটি বিরোধী দলের রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও এই একটি বিষয়ে তারা সকলেই এক। বাম, কংগ্রেস বা বিজেপির সমালোচনার মূল কারণ হলো তাদের দলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হ‌ওয়ার পর অনেকেই দল বদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে চলে এসেছে। কিন্তু এই ক’বছরে একজন ছাড়া বাকি কেউ দলবদল করার কারণে পদত্যাগ করেন নি। শুধুমাত্র কংগ্রেসের টিকিটে শান্তিপুর কেন্দ্র থেকে জিতে আসা প্রয়াত অজয় দে পদত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে ওই কেন্দ্র থেকেই উপনির্বাচনে জোড়াফুলের টিকিটে জয়ী হন তিনি। তবে অজয় দে ছাড়া আর কেউই দলত্যাগ করার পর বিধায়ক পদ ত্যাগ করেন নি। এই তালিকা দীর্ঘ। বাবুল সুপ্রিয় ঠিক এই বিতর্ককেই উসকে দিলেন। বাবুল সুপ্রিয় যখন দলবদলু বিতর্ক উসকে দিচ্ছেন সেই সময় রাজ্য বিধানসভা মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ মামলা নিয়ে সরগরম হয়ে রয়েছে। যেকোনো দিন হয়তো অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে তাঁর রায় ঘোষণা করতে পারেন।

বুধবার শপথ গ্রহণ করার পর সাংবাদিক সন্মেলনে বাবুল বলেন, “আমি সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করে একপ্রকার রাজনীতি থেকেই অবসর নিয়েছিলাম। আমি কিন্তু ওই দলে থেকে তৃণমূলে যোগ দিই নি। এটা নৈতিকতার প্রশ্ন।” বাবুল সুপ্রিয় যখন এই কথা বলছেন ঠিক সেই সময় বিধানসভার প্রেস কর্নারে ঠিক তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিজেপির টিকিটে কালীয়াগঞ্জ থেকে জিতে আসা বিধায়ক সৌমেন রায়, যিনি প্রায় মাস সাতেক আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন এবং এখনো বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন নি। সৌমেন রায় কে দেখিয়ে বাবুল সুপ্রিয় কে দলবদলু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তখন একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নেন সৌমেন রায় কে। তারপর বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভাবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত।

” সাংবাদিক সম্মেলন শেষে কালীয়াগঞ্জের বিধায়ককে বাবুলের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি তো বিজেপির ই বিধায়ক। আমি শুধু বিরোধী দলনেতার কিছু অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করেছি।” শুভেন্দু অধিকারীর দিকে তোপ দেগে সৌমেন রায় আরো বলেন, “বিরোধী দলনেতা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিধানসভায় তার ঘরটিকে ব্যবহার করছেন। তিনি বিজেপি বিধায়কদের দিয়ে বিধানসভার কাজ পণ্ড করার জন্য চেষ্টা করতেন। শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নেত্রীদের বিরুদ্ধে কিভাবে ইডি, সিবিআই হবে তাই নিয়ে চেষ্টা চালিয়েছেন। আমি তার প্রতিবাদ করেছি শুধু।” আর দলবদলের বিষয়ে কালীয়াগঞ্জের বিধায়ক বলেন, “বাবুল সুপ্রিয় রাজনৈতিক সন্যাস নিয়েছিলেন। সেখান থেকে পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজকে সমর্থণ করে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। আর আমি তো রাজনীতি থেকে কখনো অবসর নি‌ই নি।”