Date : 2022-11-27

রথযাত্রা সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে। হিন্দু-মুসলিম মিলে তৈরি করছে কলকাতার ইসকনের রথ।

শাহিনা ইয়াসমিন, সাংবাদিক: মানব ধর্মই শেষ কথা। বড় বড় মনীষীরা তাই বলেছেন। মানুষ নিজেদের সুবিধার্থে ভেদাভেদ সৃষ্টি করেছে। যেখানে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলছে সেখানে এমন এক নির্দশন দেখা গেল কলকাতার বুকে। রথ তৈরিতে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে।


আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা উত্সব। হিন্দু ধর্মের একটি পূর্ণ উত্সব। কোভিডের কারণে দুবছর সেভাবে পালিত হয়নি রথযাত্রা। তাই এবছর পয়লা জুলাই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রার রথযাত্রা কলকাতা শহরের বুকে দেখা যাবে। যে রথে চড়ে তাঁরা যাবেন সেই রথ তৈরির তোড়জোড় দেখা গেল গুরুসদয় রোডে। অর্থাত্ কলকাতার ইসকন হাউসের বাইরে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রথগুলি মেরামতের কাজ চলছে। রং করা থেকে শুরু করে কাঠের কাজ চলছে জোরকদমে। কিন্তু কারা করছেন রথ তৈরির কাজ। জানেন কি? মুসলিম কারিগররা। হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন। এই রথ তৈরিতে হিন্দু কারিগরের পাশাপাশি মুসলিম কারিগররাও রয়েছেন। যেখানে হিন্দু-মুসলিমের নামে ভেদাভেদা সৃষ্টি করা হচ্ছে, উত্তাল হচ্ছে রাজ্যরাজনীতি। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ইসকনের রথ তৈরিতে ভিন জাতের মানুষ। মানুষই বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন বলে জানান ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি রাধারমন দাস। কেউ পঁচিশ বছর ধরে কেউ আবার আট বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। কলকাতার ইসকনের রথ তৈরির সময় ডাক পড়ে ফিরোজ মণ্ডল, কৌশিক হালদারদের। জাতপাত নিয়ে মাথা ঘামান না ফিরোজ মণ্ডল ও কৌশিক হালদারের মতো খেটে খাওয়া মানুষরা। দিনের শেষে তাঁদের কাছে পেটের খিদেই গুরুত্বপূর্ণ। কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিখ্যাত হিন্দু-মুসলমান কবিতার সেই লাইন মনে পড়ে যায়- একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান, মুসলিম তার নয়নমণি, হিন্দু তার প্রাণ। সেটাই যেন সত্য বলে মনে হচ্ছে। আজকের দিনেও এমন উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়।