Date : 2022-10-01

ভালবাসা অন্ধ, ভুলিয়ে দেয় বাবা-মা, পরিবারকে, মানল আদালত

সোমদত্তা বসু, নিউজ ডেস্ক : কথায় আছে ভালবাসার টানে মানুষ সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে। প্রেম এতই অন্ধ যে সন্তান বাবা মায়ের অবদান ভুলে যায়। একটি প্রেম ঘটিত মামলায় এমনটাই পর্যবেক্ষণ কর্ণাটক আদালতের। কলেজ পড়ুয়া তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে এক তরুণ। কলেজ পড়ুয়া তরুণীর বাবা তরুণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। মামলার শুনানির সময় তরুণী জানিয়ে দেয়, সে বাবা-মায়ের বদলে স্বামীর সঙ্গে থাকতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করছে। মামলার শুনানি চলাকালীন কর্ণাটক হাইকোর্টের ২ বিচারপতি বলেন, “এদেশে বাবা –মা সন্তানদের জন্য আত্মত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে তারাও মা –বাবা হলে একই কাজ করেন। বিবাহিত সম্পর্কের ফাটল না ধরলে এসব ক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই মামলার প্রসঙ্গে বলা যায়, ভালোবাসা অন্ধ। ভালবাসা এতই শক্তিশালী যে বাবা, মা,পরিবারের স্নেহ মমতাকে ভুলিয়ে দেয়”। বিচারপতি ওই তরুণীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আজ বাবা মায়ের সঙ্গে যে ব্যবহার করছ, তা একদিন তোমার জীবনেও ফিরবে।

১০০ বছর সেবা করেও বাবা মায়ের ঋণ শোধ করা যায় না”। তবে আইনের বিচারে ওই তরুণীর বাবা মায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। সূত্রের খবর, মেয়েকে অপহরণ করে বিয়ে করায় মেয়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তার বাবা। তরুণীর বাবার অভিযোগ, কিছুদিন আগে ইঞ্জিনিয়রিং কলেজের হোস্টেল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় তার মেয়ে। দুই তরুণের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেন তরুণীর বাবা। কর্ণাটক আদালতে মঙ্গলবার মামলার শুনানি চলাকালীন হাজির হন নিখোঁজ তরুণী ও অভিযুক্ত তরুণ। বিচারপতির প্রশ্নের তরুণী জবাব দেন, তিনি সাবালিকা। ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। স্বেচ্ছায় তিনি ২ তরুণে সঙ্গে পালিয়ে যান হোস্টেল থেকে। ১৩ মে মন্দিরে বিয়ে করার পর তিনি তার স্বামীর সঙ্গে রয়েছেন। বিচারপতিকে ওই তরুণী জানান, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপরেই আদালত তরুণীর বাবার করা মামলা খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে মামলায় আদালত পর্যবেক্ষণ জানায়।