Date : 2022-11-29

মোবাইল নয়, বই পড়ার অভ্যাসে পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনতে এক অনন্য প্রয়াস।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক ঃ করোনা আবহে পড়ুয়াদের জীবনে একমাত্র ভরসার জায়গা করে নেয় মোবাইল ফোন। মোবাইলের প্রতি পড়ুয়াদের আকর্ষণ কমাতে তার খারাপ দিকটি গ্রাফিটির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। দমদমের শ্রী শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের করিডর জুড়ে আঁকা সেই ছবি দেখে খুশি পড়ুয়ারা।

করোনা আবহে গৃহবন্দী পড়ুয়া জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়ে উঠেছিল অ্যানড্রয়েড মোবাইল। অনলাইন ক্লাস করা থেকে বন্ধুদের সাথে গল্প বা আলোচনা সব কিছুতেই ভরসা ছিল মোবাইল ফোন। দিনের বেশি সময় মোবাইল ব্যবহার তা একপ্রকার নেশার মতো ছাত্রজীবনে ঢুকে পড়তে শুরু করে। করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী হতেই খুলেছে স্কুল। শুরু হয়েছে অফলাইনে পঠনপাঠন। কিন্তু তবুও থেকে গেছে মোবাইলের প্রতি পড়ুয়াদের আকর্ষণ। পড়ুয়াদের মন থেকে মোবাইলের নেশা কাটাতে চিন্তা ভাবনা শুরু করেন দমদম শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক অসিম কুমার নন্দ। মোবাইলের কুফলগুলিকে পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চলতি বছরের দীর্ঘ গ্রীষ্মের ছুটিতে প্রাক্তন পড়ুয়াদের সাহায্যে স্কুলের দেওয়ালে গ্রাফিটির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মোবাইলের কুফলগুলি। মোবাইল বন্দী জীবন থেকে বেরিয়ে আসা কতটা জরুরি তাও তুলে ধরা হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপ ছাত্র জীবনে কতটা ক্ষতিকর রঙ তুলির টানে তাও স্কুলের দেওয়ালে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রাক্তনীরা। শিক্ষক ও প্রাক্তনীদের এই মিলিত প্রচেষ্টায় পড়ুয়ারা বেশ খুশি বলে জানিয়েছেন দমদম শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার নন্দ।

গ্রীষ্মের ছুটি কাটিয়ে পড়ুয়ারা স্কুলে ফিরে, স্কুলের দেওয়ালে শিক্ষামূলক গ্রাফিটি দেখে বেশ খুশি। এই শিল্পকলার মাধ্যমে পড়ুয়া জীবনে মোবাইলের খারাপ দিকটিকে খুব সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে বলে মত বর্তমান পড়ুয়াদের।

শুধুমাত্র মোবাইলের কুফল নয়। লকডাউনে দীর্ঘদিন দিন গৃহবন্দী থাকায় অনেক পড়ুয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগছেন। মানসিক অবসাদ থেকে কি ভাবে বেরিয়ে আসবে পড়ুয়ারা তাও তুলে ধরা হয়েছে স্কুলের করিডর জুড়ে গ্রাফিতির মাধ্যমে।