Date : 2022-09-27

প্রযুক্তির বেড়াজালে হারানোর পথে ট্রাফিকে অভিযোগের কার্ড

সঞ্জনা লাহিড়ী, সাংবাদিক:- রাস্তায় বেরোলে পথ দুর্ঘটনা ছাড়াও একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হন সাধারণ মানুষ। কখনও বাস কন্ডাক্টরের দুর্ব্যবহার আবার কখনও ট্যাক্সি চালকের বাড়তি ভাড়া চাওয়া। পথ চলতি যেকোন সমস্যার জন্য অভিযোগ জানাবেন কোথায় তা ভেবে পান না অনেকেই। কখনও সমস্যা গুরুতর হলে কর্তব্যরত ট্রাফিক আধিকারিককে জানানো হয়। তিনি প্রয়োজনমাফিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগকে ইমেল বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও জানানো হয় অভিযোগ। তবে এই সব মাধ্যম ছাড়াও ছোট খাটো অভিযোগ জানানোর জন্য রয়েছে আরও এক মাধ্যম। যা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। পুরনো এই পন্থা হল ট্রাফিক কমপ্লেন কার্ড। বর্তমানে অনেকেরই বিষয়টি অজানা। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার বা ইমেলের আগে এই কার্ডই ছিল ট্রাফিকের যেকোনও অভিযোগ জানানোর একমাত্র হাতিয়ার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কার্ড এখন লুপ্ত প্রায়। মাসে গড়ে ৫-৬ টি অভিযোগ আসে এই কার্ডের মাধ্যমে বলে জানান কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক। কম সময়ে সমস্যার সমাধান পেতে মানুষ বেছে নিয়েছে প্রযুক্তিকে। আর তার ফলেই ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে ট্রাফিক কমপ্লেন কার্ড। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ এই কার্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না। ইমেল আইডির মাধ্যমে সহজেই অভিযোগ নথিভুক্ত করা যায় অন্যদিকে এই কার্ডে নিজের অভিযোগ লিখে অভিযোগকারী যেকোনও ট্রাফিক গার্ডে বা ট্রাফিক কিয়স্কে জমা দিতে পারে।

এমনকি রাস্তায় কর্তব্যরত ট্রাফিক আধিকারিককেও দেওয়া যেতে পারে এই কার্ড। তবে সেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগকারীর অভিযোগ পত্র কতটা গিয়ে পৌছবে তা নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়ে গিয়েছে প্রশ্ন। চাইলে এই কার্ড লালবাজরের ট্রাফিক বিভাগে গিয়েও জমা দেওয়া যেতে পারে। সহজে মুশকিল আসান করতে মানুষ অনেক বেশি ভরসা করছে প্রযুক্তিকেই। আর তাই হারানোর পথে ট্রাফিক কমপ্লেন কার্ড।