Date : 2022-09-27

বিজেপির ফাঁদে পা দেবেন না। নিজেদের ক্লিন ইমেজ বজায় রাখুন। মন্ত্রীসভার বৈঠকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক : নতুন করে মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের পর প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকে সরকারের কাজে ক্লিন ইমেজের দিকে নজর মুখ্যমন্ত্রীর। এমনিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল ইস্যুতে যথেষ্ট অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে বেশকিছু নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক তো নতুন মন্ত্রীদের দিগনির্দেশ করেছেন, পাশাপাশি পুরানো মন্ত্রীদের‌ও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর মন্ত্রীসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন বিজেপি বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলবার চেষ্টা করছে। আমাদের আরও বেশি সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। নিজেদের ‘ক্লিন ইমেজ’ বজায় রাখার দিকে তিনি অধিক জোর দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গেই উত্তর ২৪ পরগণার এক মন্ত্রী কে ধমক‌ও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। এছাড়াও আর যে যে নির্দেশ এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন তা এরকম।

১) প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্টভাবে তেমন কোনো কাজ থাকে না। এখন থেকে প্রতিমন্ত্রীদের জন্যেও কাজের ভাগ করে দেওয়া হবে। কি কি কাজ করতে হবে তার তালিকা মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। অবশ্যই তিনি যে দফতরের প্রতিমন্ত্রী সেই দফতরের কাজ‌ই তাঁকে করতে হবে।
২) ক্যাবিনেট বৈঠকে নতুন মন্ত্রীদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি কাগজ ভালো করে পড়ে বুঝে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং স্বাক্ষর করতে হবে। পুরানো মন্ত্রীদেরও এ বিষয়ে আরও জোর দিতে বলা হয়েছে।
৩) মন্ত্রীদের পাইলট কার ব্যবহারে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর। কলকাতায় কোনো মন্ত্রী পাইলট কার ব্যবহার করতে পারবেন না।
৪) শুধু পরিদর্শনেই মন্ত্রীদের কাজ শেষ হয়ে যায় না। পরিদর্শন করা ও সেই কাজ শেষ করার জন্য মন্ত্রীদের অতিরিক্ত উদ্যোগী হ‌ওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
৫) নতুন করে কোনো প্রকল্পের প্রস্তাব জমা না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এমনিতেই প্রতিটা দফতরের অনেক প্রস্তাব অর্থ দফতরের বিবেচনাধীন রয়েছে। পাশাপাশি অনেক প্রস্তাব পাশ করা আছে। আগে সেইসব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে, তারপর নতুন প্রকল্পের বিষয় ভাবা যাবে। কেন্দ্রের কাছে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষীর ভান্ডার সহ সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা যোগানোই এখন সরকারের আশু কর্তব্য। তাই নতুন প্রকল্পের বিষয়ে এখন‌ই না ভাবতে বলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।