Date : 2022-09-27

মুখ্যমন্ত্রীর পুজোর উপহার। চাকরি পেলেন দশ হাজার কর্মপ্রার্থী।

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক : মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন পুজোর আগে তিরিশ হাজার যুবক যুবতীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। সেই কাজের সূচনায় সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে দশ হাজার জনকে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামি ১৫ তারিখ খড়গপুরে এমন‌ই আরো একটি অনুষ্ঠানে ও পরবর্তী সময়ে শিলিগুড়িতে অনুরূপ আর একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাকিদের হাতেও নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘উৎকর্ষ বাংলা’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য রাজ্যের যুবক যুবতীদের কর্ম দক্ষতাকে ঘষে মেজে চাকরির উপযুক্ত করে তোলা যাতে তারা সহজে নিয়োগ পায়। রাজ্য সরকারের কারিগরি শিক্ষা দফতরের অধীনে রাজ্য জুড়েই বিভিন্ন আইটিআই সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির উপযুক্ত করে তোলার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে অনেকেই চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন। তবে সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একলপ্তে দশ হাজার জনকে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হল। যা সরকারি উদ্যোগে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে একপ্রকার নজিরবিহীন।

যা দেখে সিআইআইএ-র চেয়ারম্যান প্রশান্ত শর্মা পর্যন্ত মঞ্চ থেকে বললেন, “এইভাবে এক জায়গা থেকে সরকারি উদ্যোগে এতজনের চাকরির ব্যবস্থা করা এককথায় অনবদ্য। এর আগে অন্য কোথাও এমন হয়নি।” মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প উৎকর্ষ বাংলা। এদিন মূলতঃ ছয়টি জেলার সফল শিক্ষার্থীকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান কলকাতা, হাওড়া, হুগলী, নদীয়া ও দুই ২৪ পরগণার শিক্ষার্থীদের নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হল। পুজোর আগে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও যে যথেষ্ট খুশি তা তার কথাতেই পরিষ্কার। অনুষ্ঠানের সূচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছিলো তখন আমার জীবনে দেখা একটা স্বপ্ন ছিলো যে বাংলা আবার বিশ্ব সেরা হবে। আজ অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সেরা।

এবার আমার লক্ষ শিল্পেও এক নম্বর হ‌ওয়া, যে শিল্প কে ৩৪ বছরে তছনছ করে দিয়েছিলো।” মুখ্যমন্ত্রী জানান জব ফেয়ারে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের হাতেই নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী বিভিন্ন জেলার মোট কর্মপ্রার্থীর সংখ্যা – উত্তর ২৪ পরগনা-২৫৯৪ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগণা-২৪৭৭ জন, হাওড়া-১১৪১ জন, হুগলী-১৪০৫ জন, নদীয়া-১৪৬৭ জন, কলকাতা-২৪৮৪ জন, দার্জিলিং-৭৮৪ জন, কোচবিহার-৯১৭ জন, জলপাইগুড়ি-৭৯৮ জন, উত্তর দিনাজপুর-৫০৮ জন, মূর্শিদাবাদ-১৯৮৮ জন, বাঁকুড়া-১১৩৮ জন, পুরুলিয়া-১৯১৯ জন, পূর্ব বর্ধমান-৮৮০ জন, পশ্চিম বর্ধমান-৩৫০০, পূর্ব মেদিনীপুর-১৩১৯ জন। এছাড়াও আরো কয়েকটি জেলাতেও অনুরূপ সফল শিক্ষার্থীকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জোর দিয়ে বলেন যারা এখনও জব ফেয়ারে অংশ নেন নি তারা নিজেদের এলাকায় যখন জব ফেয়ার হবে সেখানে পার্টিসিপেট করবেন। চাকরি আপনাদের ডাকবে। আপনাকে শুধু একটু খোঁজ রাখতে হবে। এদিন কেন্দ্রকেও একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাই আগামিদিনে শিল্পের গন্তব্য উল্লেখ করে শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ করতে আহ্বান করেন তিনি। সেই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লির শাসকদল চায় না চাকরি হোক। দেশে এখন শুধু এজেন্সি রাজ চলছে। শিল্পপতিদের ভয় দেখানো হচ্ছে।” কেন শিল্পপতিরা বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।