Date : 2022-09-27

ব্যক্তিগত অন্যায়ের দায় নেবে না দল। পরিষদীয় দলের বৈঠকে বার্তা তৃণমূল শীর্ষ নেতাদের।

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক ঃ শাসকদলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোনো অন্যায় কাজে দল কোনো দায় নেবে না। কেউ তার পদের অপব্যবহার করে কোনো অন্যায় কাজে যুক্ত থাকলে তার ফল তাকেই ভোগ করতে হবে। বুধবার রাজ্য বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে পরিষ্কার জানিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বুধবার শুরু হল বিধানসভার স্বল্পকালীন অধিবেশন যা চলার কথা আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত। প্রতিবারের মতো এই অধিবেশনে দলীয় বিধায়কদের করণীয় বিষয় নিয়ে এদিন বিধানসভার নৌসর আলি কক্ষে বৈঠকে বসেন তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতারা। ছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নির্মল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম, অরুপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুলক রায়, শশী পাঁজা, তাপস রায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের সকল বিধায়ক। অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক কাজে পূর্ব মেদিনীপুর এর নিমতৌরি তে ছিলেন। ফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল বিধায়করা অবশ্য এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন নি।

তবে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। সূত্রের খবর বৈঠকে সুব্রত বক্সি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অরুপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম বক্তব্য রাখেন। সেখানেই দলীয় নেতৃত্ব বিধায়কদের এই বার্তা দিয়েছেন বলেই খবর। শিক্ষক নিয়োগে দূর্ণীতিতে ফেঁসে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই মুহূর্তে জেলবন্দী। সেই প্রসঙ্গ তুলে এক নেতা বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো যদি কেউ কিছু করেন তাহলে তার দায় তৃণমূল পরিষদীয় দল নেবে না। এই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া নিয়োগ দূর্ণীতি বা টাকা উদ্ধার নিয়ে বিরোধীরা যে বিধানসভার অধিবেশনে হল্লা করবে সেটা ধরে নিয়েই দলীয় বিধায়কদের বলা হয়েছে বিজেপি যাই অভিযোগ করুক না কেন, তাদের যথাযোগ্য উত্তর দিতে হবে। তবে বিধানসভার মধ্যে এমনকিছু করা যাবে না যাতে দলের বদনাম হয়।

বিরোধীদের কোনোরকম প্ররোচনায় পা না দিয়ে বিতর্কের মাধ্যমেই তাদের সব সমালোচনার জবাব দিতে হবে। বিধায়কদের হাজিরা নিয়ে কড়া মনোভাবের কথাও জানানো হয়েছে। যতদিন অধিবেশন চলবে ততদিন অধিবেশনে থাকতেই হবে। যদি কোন‌ও বিধায়ক কোনো বিশেষ কারণে অনুপস্থিত থাকতে চান তাহলে তা আগাম জানিয়ে দিতে হবে। অধিবেশন চলাকালীন সব সময় অন্তত ২০০ বিধায়ককে কক্ষের অভ্যন্তরে থাকতেই হবে। বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনায় যারা অংশ নেবেন তাঁরা যেন প্রস্তুত হয়ে আসেন, দেওয়া হয়েছে সেই নির্দেশ। পাশাপাশি সরকারকে বা মন্ত্রীকে অস্বস্তিতে পড়তে হয় এমন কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। প্রয়োজনে আগেই সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে। এইসব নির্দেশ গতানুগতিক প্রতিটি অধিবেশনের শুরুতেই দেওয়া হয়, তবে একজন মন্ত্রী জানালেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইস্যু যে এত সহজে ঘাড় থেকে নামবে না তা তাঁরা বুঝতে পারছেন। ফলে আগামি দিনে যাতে আর কাউকে নিয়ে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয় তার জন্য‌ই এমন বার্তা দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো। এদিকে দীর্ঘ ২১ বছর পর এই প্রথম বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠক হল যেখানে অনুপস্থিত থাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।