Date : 2024-07-12

বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে খুন, ১৩ দিন পর গ্রেফতার অভিযুক্তরা

সঞ্জনা লাহিড়ী, সাংবাদিক – ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ ট্যাংরার ডোম বস্তির এক যুবক। বন্ধুর বাড়ি গিয়ে আর ফেরেনি বছর পঁয়ত্রিশের ঝুনু রানা। ৪ তারিখ সকাল থেকে বেপাত্তা বন্ধু গুলাম রাব্বানি ও তাঁর স্ত্রী। নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের ট্যাংরা থানায়। ভিন রাজ্য থেকে গ্রেফতার বন্ধু ও তাঁর স্ত্রী। খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার অভিযুক্তদের।

৩ তারিখ বিকেলে চায়না টাউনে বন্ধু দীপু ও গুলাম রাব্বানীর সঙ্গে নেশা করছিলেন ট্যাংরা থানা এলাকার ডোম বস্তির বাসিন্দা ঝুনু রানা। নেশার পরে নিজের নতুন বাইক নিয়ে বন্ধু গুলামকে তাঁর বাড়িতে দিতে যায় ঝুনু। তিলজলা থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ফ্ল্যাট গুলামের। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী ওই দিন বিকেল নাগাদ দুজনকে ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেখা যায়। প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা পর গুলাম ঝুনুর বাইক নিয়ে একাই বেরোয় এবং কিছুক্ষণ পর অপর এক অপরিচিত যুবককে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসে ফ্ল্যাটে। পরের দিন সকালে স্ত্রীয়ের সঙ্গে ৩ টি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে ক্যাবে বেরিয়ে যায় গুলাম রাব্বানী। এরপর থেকেই বেপাত্তা গুলাম ও তাঁর স্ত্রী। ৫ তারিখ ট্যাংরা থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করে ঝুনুর পরিবার। প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় থানা বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে লালবাজারের হস্তক্ষেপে তদন্তের গতি বাড়ে বলে দাবি পরিবারের।

গুলাম রাব্বানীর ফ্ল্যাটে ৫ তারিখ থেকে ভাড়া আসে মালদহ থেকে আসা মা ও মেয়ে। মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য মাস খানেকের জন্য ঘর ভাড়া চাইছিলেন তাঁরা। অনেক খোঁজার পর পরিচিত এক দাদার মারফত গুলামের ভাই ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে ওই পরিবার। অবশেষে গুলামের ফ্ল্যাটে এসে থাকা শুরু করেন তাঁরা। গুলামকে তাঁরা না চিনলেও কাজের সুত্রে অন্য জায়গায় গুলাম চলে যাবে বলে ওই ফ্ল্যাটটি তাঁদের ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানায় তাঁরা।

ঝুনুর সঙ্গে রাব্বানীর পরিচয় দীপু নামে এক যুবকের মাধ্যমে। ঝুনু নিখোঁজের পর থেকে সুইচ অফ ঝুনু ও তাঁর স্ত্রীয়ের মোবাইল ফোন। খুন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। গুলাম ও তাঁর স্ত্রী ৪ তারিখ সকালে বেরিয়ে হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে খড়্গপুর যায়। সেখান থেকে ভুবনেশ্বর। ভুবনেশ্বর থেকে ব্যাঙ্গালোর যায় এবং ব্যাঙ্গালোর থেকে দিল্লি যায় বলে রেল সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তদের খোঁজে ট্যাংরা থানা ও লালবাজারের যৌথ উদ্যোগে দুটি দল ব্যাঙ্গালোর ও দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় গুলাম রাব্বানী ও তাঁর স্ত্রীকে। নিজের ফ্ল্যাটে গুলাম ও তাঁর স্ত্রী খুন করে খালের জলে ফেলে দিয়েছে বলে প্রাথমিক জেরার স্বীকার। খুনের কারণ কি? ট্রলি ব্যাগে করেই কি দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? দেহ ফেলা হল কোথায়? তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই লালবাজারের হোমিসাইডের শাখা তদন্ত শুরু করেছে।