Date : 2024-04-18

তীব্র গরমে সুস্থ থাকার খাবার

সঞ্জনা লাহিড়ী, সাংবাদিক- দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর তাপমাত্রা প্রায় ৪০। তাপপ্রবাহ দক্ষিণে। পিছিয়ে নেই উত্তরও। উত্তরের কয়েক জেলাতেও গরমে কাহিল মানুষ। অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার জন্য এই সময় শরীর থেকে প্রয়োজনীয় জল বেরিয়ে যায়। শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়। কোন কোন খাবার এই সময়ের জন্য উপযোগী তা নিয়ে আজ আলোচনা করা যাক।
১) জল- একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর দিনে প্রায় ৩-৩.৫ লিটার জল খাওয়া জরুরী। অন্যদিকে একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ৪-৪.৫ লিটার জল খাওয়া উচিত। এই সময়ে পরিশুদ্ধ জল পান করা দরকার। নচেৎ জলবাহীত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। যদিও কিডনির সমস্যা যাঁদের তাঁরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে জল পান করবেন।
২) শরবত- গরমে লেবু বা অন্যান্য রসালো ফলের শরবত খাওয়া উপকারী। ডাবের জল ভীষণ ভাল কাজ দেয়। এই সব পানীয় খুব সহজেই শরীরে জলের চাহিদা পূরণ করে। ডাবের জল ও ফলের রস বা শরবত খেলে শরীরে জলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের চাহিদাও পূরণ হয়।
৩) সবজি- কাঁচা পেঁপে, পটল, শসা, চিচিঙ্গা, গাজর, লাউ, পালংশাক, টমেটো, শসায় জলের পরিমাণ বেশি থাকে। শরীরে জলের ঘাটতি দূর করতে এই খাবারগুলো অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।
এই সময় তেঁতুল, কাঁচা আম দিয়ে টক ডাল বা সজনে দিয়ে ডাল রান্না করে খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। কাঁচা আম পোড়া শরবতও শরীরের জন্য ভাল। যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায় তাঁরা ঢেঁড়স, বেগুন এড়িয়ে চলুন।
৪) মৌসুমি ফল- ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থেকে সমাধান পেতে কাঁচা আম খুব ভাল কাজ দেয়। কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। এছাড়াও ভিটামিন সি ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে যা শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গরমে প্রচুর তরমুজ পাওয়া যায়। তরমুজ শরীর ঠান্ডা রাখে। ভিটামিন ও খনিজ লবণে সমৃদ্ধ তরমুজ শরীরের জন্য খুব ভাল ফল।
৫) আখের রস- আখের রস শরীরকে ঠান্ডা রাখে। আখের রসের সঙ্গে বিট লবণ, পুদিনাপাতা এবং লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া আরও বেশি উপকারী।
৬) বেলের শরবত- বেলের শরবত গরমে পেট ঠান্ডা রাখে। বেলে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, প্রোটিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি১ এবং বি২, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফাইবার; যা শরীরকে সতেজ রাখে।
৭) পুদিনার শরবত- গরমে দিনে রোদের তাপ থেকে রক্ষা পেতে ও শরীরকে সুস্থ রাখতে পুদিনা পাতার শরবত উপকারী।
৮) জিরের জল- নোনতা স্বাদের পানীয় জিরের জল হজমে সাহায্য করে। জিরে ভেজানো জলে স্বাদ আনতে চিনি বা মধু দেওয়া যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা দেবেন না।
যা খাবেন না-
গরমের থেকে স্বস্তি পেতে অনেকে সফট ড্রিঙ্কস প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকেন, যা শরীরের জন্য একেবারেই ঠিক না। এই পানীয়গুলো শরীরকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও এই ধরণের পানীয়র কোনও পুষ্টিগুণ তো থাকেই না, বরং শরীরের ক্ষতি করে। তাই এই ধরণের ড্রিঙ্কস বর্জন করাই ভাল। এছাড়াও তেল, ভাজা-পোড়া, মশলা বা স্পাইসি খাবার ও বাইরের তৈরী শরবত, কাটা ফল একদম খাওয়া উচিত নয়। তেল মশলা কম দেওয়া পাতলা ঝোল খাবার খাওয়া এই সময় ভাল।