Date : 2024-05-25

পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের রাজনীতির ছড়ি কাঁথির বাপ-ছেলের হাতেই

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক : দিদির সৈনিক হিসাবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন কাঁথির অধিকারী বাড়ির বাপ-ছেলে। এখনও সেই কাঁথির বাপ-ছেলেই তৃণমূল সুপ্রিমোর সৈনিক হিসাবে নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে এই বাপ-ছেলে অধিকারী বাড়ির নয়, এই বাপ-ছেলে গিরি বাড়ির। জেলায় তৃণমূলের সাম্রাজ্যে নতুন বাপ-ছেলে জুটি হলেন অখিল গিরি ও সুপ্রকাশ গিরি।

পূর্ব মেদিনীপুর। বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এমন একটা জেলা যে জেলা দু’হাত ভরে তৃণমূল কংগ্রেসকে আশীর্বাদ করেই গেছে। ২০০৮ সালে রাজ্যে প্রথম পরিবর্তনের সূচনা হয় এই জেলাতেই। সেই বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সঙ্গে এই জেলাপরিষদ‌ও দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই শুরু। তারপর থেকে জেলার প্রায় সব বিধানসভা, লোকসভাতেও শুধু ঘাসফুল। অনেকেই জানেন ও মানেন এই জেলায় ঘাসফুল ফোটানোর কাজে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে আস্থার জায়গাটা ছিলো কাঁথির অধিকারী বাড়ি। বিশেষ করে শিশির অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারী। অধিকারী বাড়ির এই বাপ-ছেলের চোখেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে দেখতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জেলা সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলনেত্রী অনেকটাই নির্ভর করতেন শিশির অধিকারী বা শুভেন্দু অধিকারীর উপর। সেই অধিকারী বাড়ির সঙ্গে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারেই অহি-নকুল সম্পর্ক। শুভেন্দু নিজে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা প্রায় প্রতিদিন তাঁর একদা নেত্রীর সমালোচনা করেন। শিশির অধিকারী বা দিব্যেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস না ছাড়লেও, তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে তারা এখন ব্রাত্য। কাঁথির এই অধিকারী বাড়ির বাপ-ছেলের ছেড়ে যাওয়া জায়গায় এখন প্রবলভাবে ঢুকে পড়েছেন কাঁথির‌ই গিরি বাড়ি। অখিল গিরি ও সুপ্রকাশ গিরি। একটা সময় শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারীদের ছায়ায় ঢাকা পড়েছিলেন অখিল গিরি। জেলার রাজনীতিতে তিনি ছিলেন শিশির, শুভেন্দুর উল্টো শিবিরে। ফলে সহজে ‘দিদি’-র কাছে তিনি (অখিল গিরি) পৌঁছাতে পারতেন না। ২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলনেত্রীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগটা পেয়ে যান অখিল গিরি। পড়ে পাওয়া সুযোগটা বারো আনার জায়গায় ষোলো আনা কাজে লাগতে কোনো কসুর করেন নি রাজনীতির এই পোড় খাওয়া নেতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াইতে জেলায় অখিল গিরির উপরে ভরসা করতে শুরু করেন। এদিকে অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ গিরিও যুব নেতা হিসাবে সামনে উঠে আসেন। রাজ্যের কারা দফতরের মন্ত্রী অখিল গিরি এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি সুপ্রকাশ গিরিকে তাই বলা যেতে পারে এই জেলার নতুন বাপ-ছেলে জুটি, যাদের উপর এখন অনেকটাই নির্ভর করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।