Date : 2024-04-13

ওরা ছাগলের তৃতীয় সন্তান। নাম না করে অধিকারী বাড়ির দিকে তোপ দাগার পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বেও সমঝে চলার বার্তা মমতার

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক : এই সেদিন পর্যন্ত (২০২০ সালের নভেম্বরের আগে পর্যন্ত) শুভেন্দু অধিকারী‌ই ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ কথা। পাল্টেছে সময়। পাল্টেছে মমতা শুভেন্দু অধিকারীর ইক্যুয়েশন ও। মঙ্গলবার সেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই দীঘাতে দাঁড়িয়ে নাম না করেই শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারীদের প্রতি তুমুল তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলের কর্মিদের‌ও সতর্ক করে দিলেন মমতা।

রাজ্যে পালাবদলের আগেই পালাবদলের সূত্রপাত হয়েছিল যে দুই জেলাপরিষদে তার একটি হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনা। আর অন্যটি পূর্ব মেদিনীপুর। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই দুই জেলার জেলাপরিষদ দখল করেছিলো তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের পর এখন তো রাজ্যের প্রতিটি জেলাপরিষদ‌ই ঘাসফুলের দখলে। ২০১৩ ও ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটেও সেই আধিপত্য নিরঙ্কুশ থেকেছে। কিন্তু ১২ বছর রাজ্যের ক্ষমতায় থাকার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার সুর। সেই সুরে সঙ্গত করার মতো সামনে এসেছে কয়লা, গরু পাচারে তৃণমূল নেতাদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ। তারসঙ্গে সাম্প্রতিক আবাস দূর্নীতি ও নিয়োগ দূর্নীতি কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দলকে। এইসব অভিযোগকে নস্যাৎ করতে পারে একমাত্র পঞ্চায়েত ভোটে জয়লাভ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবাস দূর্নীতি, নিয়োগ দূর্নীতি সহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে রাজ্যের শাসক দলকে তেড়ে আক্রমণ করছে বিরোধী দলগুলো।

সম্ভবতঃ সেকথা মাথায় রেখে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এদিন দীঘার হেলিপ্যাড ময়দানে দাঁড়িয়ে কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমার খুব খারাপ লাগে যখন দেখি আমাদের কিছু জনপ্রতিনিধি বা নেতা বলেন আমি তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ কথা বলবো। এমন কথা তো আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বলেন না।” সুব্রত বক্সির পরে বক্তব্য রাখতে উঠে তৃণমূল সুপ্রিমোও সতর্ক করেন দলের‌ই বুথ স্তরের কর্মিদের। এদিন মমতা বলেন, “মানুষ কে যদি ভালোবাসেন তাহলে কারো সঙ্গে কারো ঝগড়া চলবে না। আমি একা সব করবো, এসব চলবে না।” পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট বন্টন নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই একটি জেলায় ঝামেলা হয়েছে। চোপরায় টিকিট বন্টন নিয়ে গুলিতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই দলনেত্রী মঞ্চ থেকে বলেন, “পঞ্চায়েতে হয়তো অনেকেই টিকিট চাইবে। সৎ মানুষকেই টিকিট দেওয়া হবে। যদি কেউ টিকিট না পান তাহলে নির্দল হয়ে দাড়িয়ে পড়বেন না। দলের প্রতীকে যিনি দাঁড়াবেন তার হয়ে লড়তে হবে। দল আপনার জন্য নিশ্চিত করেই অন্য কাজ করবে।”
তবে এদিন শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলায় দাঁড়িয়ে সম্ভবত সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বেশি চাঁচাছোলা ভাষায় তাঁকে আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

শুভেন্দু অধিকারী বা শিশির অধিকারীর নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাম আমলে কাঁথির নির্বাচনে ওরা ছাগলের তৃতীয় ছানা হয়েছিলো। অখিল গিরি দ্বিতীয় হয়েছিলো।” তিনি আরও বলেন, “মানুষের ঘরে যেমন ভালো সন্তান জন্মায় তেমনি কিছু কুলাঙ্গার ও জন্মায়।” নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, “যে কটা পেয়েছে লুঠ করে পেয়েছে। আমিও কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার লোক ন‌ই। আমি কোর্টে গিয়েছি। আমিও দেখতে চাই কি করে শেষ তিনঘন্টা লোডশেডিং করে ফলাফল চেঞ্জ করে দিয়েছিলো।” তবে শুভেন্দু অধিকারী বা শিশির অধিকারীদের যত‌ই আক্রমণ করেন না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো করেই জানেন পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভালো ফল করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে দীঘার হেলিপ্যাড ময়দান থেকে এদিন বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।