Date : 2024-05-25

৫ খাবারে লিভার সুস্থ

সঞ্জনা লাহিড়ী, সাংবাদিক- বর্তমানে লিভারের নানান সমস্যা দানা বাঁধছে শরীরে। লিভারের যত্ন না নিলে ফ্যাটি লিভার, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাই লিভারকে সুস্থ রাখতে কয়েকটি খাবার রাখতে পারেন খাদ্য তালিকায়। লিভার শরীরের বিভিন্ন জটিল কাজ একাই করে। লিভার বা যকৃত দেহ শরীর থেকে টক্সিন বের করে। এছাড়াও যকৃত বিভিন্ন উৎসেচক তৈরি করতে সাহায্য করে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্যকেও নিয়ন্ত্রণ করে। তবে বর্তমানে মানুষের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস লিভারের ওপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলে। বাইরের ফাস্ট ফুড বা অতিরিক্ত তেল ঝাল মশলা খাবার লিভারের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এছাড়াও নিয়মিত মদ্যপান লিভারের ক্ষতি করে। তাই লিভারকে ভাল রাখতে আজ থেকেই এই খাবার গুলি রাখুন প্রতিদিনের খাবারের থালায়।
​১) বাঁধাকপি, ফুলকপি- বাঁধাকপি, ফুলকপির মতো পাতাবহুল সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। ফাইবার লিভারের জন্য বেশ উপকারী। এই ধরণের সবজিতে থাকা ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যকৃতকে ডিটক্সিফিকেশন করতে সাহায্য করে। লিভার থেকে ক্ষতিকর পদার্থকে বের করে দেয় এই দুই সবজি। তাই বাঁধাকপি ও ফুলকপি নিয়মিত খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত তেল-মশলা দিয়ে এই সবজি রান্না করলে কোনও লাভই হবে না। এই ধরনের সবজি অল্প তেল দিয়ে স্টিমে রান্না করা দরকার।
২) ব্রকোলি- এই সবজির গুণ অপরিসীম। ব্রকোলিতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই সবজিতে এমন কয়েকটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই সবজিতে থাকা ভিটামিন সি যকৃতকে বিভিন্ন রকমের রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
৩) বাদাম- বাদাম হল পুষ্টিতে ঠাসা। বাদামে থাকে প্রয়োজনীয় ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই সহ একাধিক উপাদান যা শরীরের জন্য উপকারী। তাই বাদাম স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। নন অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় বাদাম দারুণ কাজ করে।
৪) নোনা জলের মাছ- মাছ প্রধান দেশ আমরা বসবাস করলেও লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য নোনা জলের মাছ বা সামুদ্রিক মাছই উপকারী। স্যালমন, টুনা, সার্ডিনের মতো মাছগুলি লিভারের জন্য ভীষণই ভাল। এই ধরণের মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ফ্যাট কিন্তু লিভারের জন্য বেশ ভাল। তাই লিভার ভাল রাখতে চাইলে এই ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাতে রাখা দরকার।
​৫) কফি- লিভার ভাল রাখার জন্য কফি খাওয়া জরুরী। লিভার সিরোসিস, ক্রনিক লিভার ডিজিজ হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় কফি। কফিতে এমন কয়েকটি উপাদান রয়েছে যা লিভারের প্রদাহ দূর করে। তবে দিনে ৩ কাপের বেশি কফি খাওয়া উচিত না।