Date : 2024-07-24

এসএসসির নবম দশম শ্রেণীর নিয়োগের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার!শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : ২০১৬ সালের এসএলএসটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী মিঠুন ঠান্ডার। তার অভিযোগ ছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন শারীর প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত শূন্যপদে সাধারণ প্রার্থীদের নিয়োগ করেছে।

২০১৬ সালের নবম দশম শ্রেণীর এসএলএসটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩টি শূন্যপদ সংরক্ষিত ছিল।তৎকালীন হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৩৭৫ জন যে নিয়োগের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেন।

যদিও মামলাকারী মিঠুন থান্ডার ওয়েটিং লিস্টের ১০ নম্বর তালিকায় ছিলেন। স্কুল সার্ভিস কমিশন এক্ষেত্রে যদি দুটি শূন্যপদ বাড়ায় ও তাহলেও মামলাকারী মিঠুন থান্ডার নিয়োগ পেতে পারেন না বলেই মনে করেছে আদালত।

৩রা ডিসেম্বর ২০১৮ সালে নবম দশম এসএলএসটির চাকরি প্রার্থীরা কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন। সাধারণ তালিকাভুক্ত মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী আদালতে জানান একজন ওয়েটিং এ থাকা প্রার্থী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী তার সিরিয়াল নম্বর ১০ অথচ শূন্য পদ ছিল ৩টি। সেখানে সে কোনভাবেই নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য নয়। অথচ এই নির্দেশের ভিত্তিতে সাধারণ প্রার্থীরা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়।

মামলাকারীদের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ৩রা ডিসেম্বর ২০১৬ সালে এসএলএসটির তিনটি শূন্য পদ ছাড়া সব পদে নিয়োগের জন্য নির্দেশ দিয়ে ছিলেন। সেই ভিত্তিতে সাধারণ প্রার্থীরা নিয়োগ পেলেও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা যোগ্য হয়েও তারা নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ আইনজীবীর।

বর্তমানে শারীরিক প্রতিবন্ধী যোগ্য প্রার্থীদের আইনজীবী আশীষ বাবুর আরও অভিযোগ মিঠুন থান্ডার একজন ওয়েটিং লিস্টে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন স্কুল সার্ভিস কমিশন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত দুটি শূন্য পদ কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দুটি শূন্য পদ বাড়ালেও সে কখনোই নিয়োগ পেতে পারেন না বলে দাবি মামলাকারীদের।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যাযয়ের নির্দেশে ২৯ শে ডিসেম্বর ২০২২ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন ৯৫২ জনের বিকৃত ওএমআর শিট প্রকাশ করেছিল। সেই ও বিকৃত ওএমআর শিটেও নাম ছিল মিঠুন থান্ডারের ।স্বাভাবিকভাবেই তার মামলা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না অবিলম্বে তার মামলা খারিজ করে দেওয়া হোক আদালতে জানান আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী।

পক্ষে-বিপক্ষে সকলের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অনুরুদ্ধ রায় মামলাকারী মিঠুন থান্ডার এবং তার পক্ষে আইনজীবীদের সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু আদালতের নির্দেশ তারা কেউই উপস্থিত হননি এদিন। বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায় মিঠুন থান্ডারের মামলাটি খারিজ শুধু নয় ২০১৮ সালের ৩রা ডিসেম্বরে বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় যে স্থগিতাদেশের নির্দেশ ও প্রত্যাহার করে নিলেন । সুতরাং শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের নিয়োগের কোন বাধা রইল না।