Date : 2024-06-13

ক্রমশ কমছে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান শাখায় পড়ার চাহিদা।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : উচ্চমেধা হলে বিজ্ঞান, মধ্যমেধায় বাণিজ্য আর তার নিচে হলে কলা। একটা সময় ছিল যখন ডিভিশন আর পড়ুয়ার এমনটাই ছিল সম্পর্ক। সময়ের ফেরে সেই দিন বদলে গিয়েছে। ক্রমশ কমছে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান শাখায় পড়ার চাহিদা। ২০১৮ সাল থেকে এমন একটা ছবি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। মেধার অভাব নাকি অন্য কিছু। কি বলছেন শিক্ষক মহল।

মাধ্যমিকে আশি থেকে নব্বই শতাংশের বেশি নম্বর পেলেও ক্রমশ কমছে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান শাখায় পড়ার চাহিদা। পিওর সায়েন্স বাদ দিয়ে এখন পড়ুয়ারা মিশ্র বিষয় নিয়ে পড়ায় বেশি আগ্রহী বলে মত শিক্ষকমহলের একাংশের। ফলে কম বেশি বেশির ভাগ সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে ফাঁকা থেকে যাচ্ছে বিজ্ঞান শাখার বহু আসন।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক চলতি বছরে উচ্চ মাধ্যমিকে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০২৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮ লক্ষ ২৪ হাজার ৮৯১ জন। যার মধ্যে পাশ করেছেন ৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮০৭ জন। মোট উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪৩০ জন। যারমধ্যে বিজ্ঞান শাখায় পাশ করেছে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৮৭৪ জন।

পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, মোট পরীক্ষার্থীর সাত ভাগের এক ভাগ বিজ্ঞান শাখায় পড়তে আগ্রহদেখিয়েছিল। প্রতিবছর বিজ্ঞান শাখায় পড়ুয়া সংখ্যার কমার পিছনে বেশ কিছু কারণ আছে বলে মত শিক্ষকমহলের। শিক্ষক মহলের মতে, বাংলা মাধ্যমের তুলনায় বহু অভিভাবক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করছেন।
কলকাতার একটা বড় অংশের পড়ুয়ার পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি বোর্ড। অন্যদিকে
সিবিএসই, আইসিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস হলেও পড়ুয়াদের পড়তে হয় অনেক বেশি।

শিক্ষকমহলের বক্তব্য ২০১৮ সাল থেকে ক্রমশ কমছে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান শাখায় পড়ার আগ্রহ। এর কারণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার আগ্রহ কমার পিছনে দায়ী হল সংসদের বইগুলির বিশাল আকার। সিবিএসই, আইসিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস হলেও পড়ুয়াদের পড়তে হয় অনেক বেশি। এই বিশাল চেহারা দেখে ছাত্রছাত্রীরাও দমে যাচ্ছে বিজ্ঞান শাখায় পড়ার বিষয়ে।

এখন প্রশ্ন এর সমাধান কোথায়। শিক্ষকমহলের মতে, এনসিইআরটির বইগুলি হুবহু বাংলায় অনুবাদ করে পাঠ্যবই করা হোক। কিংবা সেগুলির ধাঁচে এখানকার বই তৈরি করা হোক। এর জন্য প্রয়োজন হলে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্যরা।