Date : 2024-06-25

মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি আসেনি এখনও। পরবর্তী মু্খ্যসচিব বি পি গোপালিকা!

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক : রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর এক্সটেনশন এর আবেদন কেন্দ্র না মানায় শেষ পর্যন্ত সরতেই হচ্ছে তাঁকে। তাঁর বদলে শুক্রবার দায়িত্ব নিতে চলেছেন বর্তমানে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব পদে থাকা বি পি গোপালিকা।

প্রায় মাস খানেক আগে নবান্ন থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয় কেন্দ্রের কাছে। চিঠির বিষয়বস্তু ছিলো রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর এক্সটেনশন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের মধ্যে থাকা ডি ও পিটি (Department of Personnel & Training) দফতরে সেই আবেদন পৌঁছালেও ২৮ জুন রাত পর্যন্ত তার কোনো উত্তর আসেনি। ফলে ধরে নেওয়া যায় যে ১৯৮৮ ব্যাচের এই আইএএস অফিসারকে এবার সরে যেতেই হচ্ছে। এর আগে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এর কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত চিঠি কিন্তু মেয়াদ শেষের দশ দিন আগেই হাতে পেয়ে গিয়েছিলো নবান্ন।এদিকে হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন’২০২৩।

রাজ্য এখন পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় রাজ্যের মুখ্যসচিব এর পদে পরিবর্তন (অবসর জনিত কারণে) হোক এমনটা চাইছিলো না রাজ্য। এমনিতে মুখ্যমন্ত্রীও চাইছিলেন যাতে বর্তমান মুখ্যসচিব অন্তত ছয় মাস এক্সটেনশন পান। কিন্তু এখনও পর্যন্ত (২৮ জুন) কেন্দ্র থেকে কোনো চিঠি এসে না পৌঁছানোয় দ্বিতীয় বিকল্পের দিকেই ঝুঁকতে চলেছে নবান্ন। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত (৩০ জুন সকাল পর্যন্ত) অপেক্ষা করবে, তারমধ্যে এক্সটেনশন এর চিঠি এসে পৌঁছালে ভালো নয়তো শুক্রবার সন্ধ্যাতে‌ই বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিব বি পি গোপালিকা-র হাতে পরবর্তী মু্খ্যসচিব হিসাবে কার্যভার তুলে দেবেন বিদায়ী মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।

এই মুহূর্তে রাজ্যে ১৯৮৯ ব্যাচের আমলা হিসাবে গোপালিকার আগে সিনিয়র হিসাবে রয়েছেন ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস সুরেশ কুমার। কিন্তু নবান্নের ইক্যুয়েশনে তিনি বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। যে কারণে তাঁকে এড়িয়ে গোপালিকাকে স্বরাষ্ট্র সচিব করা হয়েছিলো, সেই কারণে এবার‌ও গোপালিকা‌ই মুখ্যসচিব হ‌ওয়ার দৌড়ে একদম আগে আছেন।

বি পি গোপালিকা মুখ্যসচিব হলে তাঁর ছেড়ে যাওয়া স্বরাষ্ট্র সচিব পদের দৌড়ে রয়েছেন দুইজন। রাজ্যের বন দফতরের সচিব পদে থাকা অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদমর্যাদার ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস বিবেক কুমার অথবা অর্থ দফতরের দায়িত্বে থাকা ১৯৯১ ব্যাচের আমলা মনোজ পন্থ।

মনোজ পন্থ ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদার আমলা। যদি শেষ পর্যন্ত মনোজ পন্থ-কে স্বরাষ্ট্র সচিব পদে নবান্ন নিয়ে আসে সেক্ষেত্রে তাঁর থেকে সিনিয়র বেশ কয়েকজন আমলাকে টপকেই মনোজ পন্থের নামে শিলমোহর দিতে হবে নবান্নকে। এই তালিকায় রয়েছেন ১৯৮৯ ব্যাচের তিনজন। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদার এই তিনজন হলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অজিত রঞ্জন বর্ধন, কৃষি বিপনন দফতরের অনিল ভার্মা ও সুন্দরবন দফতরের দায়িত্বে থাকা অত্রি ভট্টাচার্য।

শেষের জন একটা সময় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব পদেও ছিলেন। এছাড়া ১৯৯০ ব্যাচের মনোজ কুমার আগর‌ওয়াল(সচিব‌; ফায়ার দফতর), সুব্রত গুপ্ত(সচিব; খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ), হৃদেশ মোহন (সচিব; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি)। এছাড়া আরো একটি নাম সামনে আসছে। ১৯৯২ ব্যাচের আমলা বরুণ রায়। যদিও এতসব নাম নিয়ে আলোচনা চললেও নবান্নের অন্দরে কিন্তু মূলতঃ তিনটি নাম‌ই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মুখ্যসচিব পদে বি পি গোপালিকা এবং স্বরাষ্ট্র সচিব পদে মনোজ পন্থ অথবা বিবেক কুমার। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো নামকে সামনে নিয়ে এসে চমকে দিতে পারেন বলেও মনে করছেন নবান্নের অনেকে।