Date : 2024-07-16

মনোনয়ন প্রত্যাহারে জোর জবরদস্তির অভিযোগ ! কমিশনের হাতিয়ার পঞ্চায়েত আইন

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক : জোর জবরদস্তি কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো হয়েছে, এমন অভিযোগ আটকাতে পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচন আইন’২০০৩ কে হাতিয়ার করে জেলাশাসকদের চিঠি পাঠালো কমিশন। কমিশনের পরিষ্কার নির্দেশ নির্দিষ্ট ফরম ফিলাপ করে সশরীরে জমা করলে তবেই সেই মনোনয়ন প্রত্যাহার যথোপযুক্ত বলে ধরা হবে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা পর্বেই বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির অভিযোগ নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিভিন্ন বিরোধী দলের অভিযোগ শাসকদল তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতেই দিচ্ছে না। তারপরেও অনেক জায়গাতেই মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার কাজ চলছে। এমতাবস্থায় অনেকেই (বিশেষ করে বিরোধী দল) আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে মনোনয়ন পত্র জমা করা হলেও শাসকদল ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে বিরোধীদের সেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করাতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে কোনো প্রার্থীর হয়ে অন্য কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করার ফরম ফিলাপ করে জমা দিয়েছে, ফলে ওই প্রার্থী ভোটে লড়াই করতে চাইলেও পারেন নি।

এই ধরনের ঘটনা আটকাতে কমিশনের হাতেই রয়েছে ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত আইন। উক্ত আইন মোতাবেক কোনো ব্যক্তি যদি মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পরেও সেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে চান তাহলে তাকে একটি নির্দিষ্ট ফরম (এক্ষেত্রে ফরম-৫) পূরণ করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এই ফরম জমা দেওয়ার প্রসেসটাও আইনে পরিষ্কার বলা আছে। বলা হয়েছে, যিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাইছেন তিনি শুধু ফরম-৫ ফিলাপ করলেই হবে না, সেই সঙ্গে তাকে নিজে সশরীরে উপস্থিত থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে তা জমা দিতে হবে। তিনি (প্রার্থী) নিজে যদি জমা করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তার নামের প্রস্তাবক বা তার নির্বাচনী এজেন্ট কে সশরীরে উপস্থিত থেকে ওই ফরম জমা দিতে হবে। তার সঙ্গে প্রার্থীর নিজের হাতে লেখা অথরাইজড চিঠিও দিতে হবে। প্রসঙ্গত ওই ফরম-৫ মূলতঃ একটা ঘোষণা পত্র (self declaration) যেখানে প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, কোন আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন, কেন প্রত্যাহার করছেন ইত্যাদি লিখতে হয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এক কর্তার বক্তব্য এটা (জেলাশাসকদের পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে) একেবারেই প্রথাগত। পঞ্চায়েত আইনেই এমনটা বলা রয়েছে। প্রতি নির্বাচনেই এই প্রসেস ফলো করা হয়, এতে নতুনত্বের কিছু নেই।