Date : 2024-06-13

‘ব্রিগেডের রঙ যদি লাল হয়’, কি বার্তা দিল এসইউসিআইয়ের সমাবেশ!

সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, সাংবাদিক: ৩৫ বছর পর এস ইউ সি আই-এর সমাবেশ ছিল ব্রিগেডে, গত কয়েক মাস ধরেই এই দিনটার জন্য চলছে প্রস্তুতি। সকাল থেকেই রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে থেকে আসতে শুরু করেছিলেন দলের কর্মীরা। ব্রিগেড জুড়ে বেশ ভালই ভীড় চোখে পড়ল। এসইউসিআই-এর হাত ধরে শনিবার ব্রিগেডের রং হয়ে উঠল লাল।

এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)এর প্রতিষ্ঠাতা, শিবদাস ঘোষের জন্মশতবর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ। সভাপতিত্ব করেন পলিটবুরো সদস্য কমরেড কে রাধাকৃষ্ণ৷ এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পলিটবুরো সদস্য সত্যবান।

সভাপতি কে রাধাকৃষ্ণ বলেন ’শিবদাস ঘোষ ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে আপসহীন ধারার যোদ্ধা৷ মার্ক্সবাদের উপলব্ধির ভিত্তিতে তিনি বুঝেছিলেন 1947 সালে দেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃত মুক্তি আসেনি৷ সেই জন্য তিনি এদেশের বুকে এস ইউ সি আই(সি)-কে একটি যথার্থ মার্ক্সবাদী দল হিসাবে গড়ে তোলেন৷’

পলিটব্যুরো সদস্য সত্যবান বলেন- ’কেন্দ্র ও রাজ্যে যারাই ক্ষমতায় আসছে তারাই ভারতের পুঁজিবাদী শাসনের সেবা করছে৷ ভারতীয় পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র নিয়েছে৷ এই সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যতদিন যাচ্ছে মানুষের সমস্যা তীব্রতর হচ্ছে৷ সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ মনিপুরে বিভেদের আগুন জ্বালানো হচ্ছে৷ কেন্দ্রের ও মনিপুরের বিজেপি সরকার উভয়েই এর জন্য দায়ী৷ বিজেপিকে নিশ্চয়ই ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে, কিন্তু কেবল ভোট রাজনীতি দিয়ে মানুষের মূল সমস্যার সমাধান হবে না৷ চাই শক্তিশালী গণ আন্দোলন৷’

সাধারণ সম্পাদক প্রভাস ঘোষ বলেন, ‘ব্রিগেডের এই বিশাল সমাবেশ সফল করতে গোটা দেশের সাধারণ মানুষ অর্থ সহ নানা দিক দিয়ে যে বিপুল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তার জন্য তাঁদের তিনি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান৷ কী কঠিন ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে শিবদাস ঘোষ এই পার্টি গড়ে তুলেছিলেন তিনি তা ব্যাখ্যা করেন৷ বলেন, যে পার্টিগুলো সেদিন বিদ্রুপ করেছিল তাদের অনেকেই আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে৷’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী গরীবের ত্রাণকর্তা৷ তাঁরা ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বড়াই করেন৷ এই ডাবল ইঞ্জিনের গাড়িতে বসে আছেন। আম্বানি, আদানিদের মত কর্পোরেট মালিকরা আর সেই গাড়ির তলায় পিষ্ট হচ্ছে দেশের গরীব সাধারণ মানুষ৷ এই বিজেপিকে হটানোর জন্য বিরোধীরা ‘ইণ্ডিয়া’ জোট তৈরি করেছে৷ কিন্তু এই ইণ্ডিয়া কোন ইণ্ডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে? গরীব মানুষের ইণ্ডিয়াকে? অন্যদিকে কংগ্রেস দাঙ্গা বাধায়নি? সেই কংগ্রেসকে এরা সেক্যুলার বলছে৷ তৃণমূল তাদের সংগে গেছে৷ যে সিপিএম এরাজ্যে তৃণমূলের বিরোধিতা করে তারাও ঐ জোটের সামিল৷ এক পীরকে আবার সেক্যুলার বানানো হয়েছে৷ এদিকে তৃণমূল সরকার অতীতের জমিদারদের কাঙালি ভোজনের মত করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ নানা “শ্রী”-প্রকল্প চালু করেছে সবই ভোটের জন্য৷ তৃণমূল ভোটের নামে রক্তবন্যা বইয়েছে৷ অথচ 2009 ও 11 সালে এদের বুথ ক্যাপচার করতে হয়নি, ঠিক যেমন 1977 সালে রিগিং ছাড়াই সিপিএম ক্ষমতায় এসেছিল৷ পরবর্তীকালে সিপিএম প্রতিটি ভোটে রিগিং করেছে এবং তৃণমূল এখন সেই পথেই চলছে৷

এই সভায় ২৫টি রাজ্যের ও পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলা থেকে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক শুভানুধ্যায়ী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক বামপন্থী এবং গণতান্ত্রিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে যোগ দেন। ১লক্ষেরও বেশি মানুষের জমায়েত হয়।
সমাবেশের শুরুতে পতাকা উত্তোলন করেন পলিটব্যুরো সদস্য সৌমেন বসু। শিবদাস ঘোষের জীবন সংগ্রামের উপর একটি ছবির প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পলিটব্যুরো সদস্য কান্তিময় দেব। এ ছাড়া শিবদাস ঘোষের উদ্ধৃতি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পলিটব্যুরো সদস্য রবিন সমাজপতি। দলের গণআন্দোলনের বিভিন্ন ছবির একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পলিটব্যুরো সদস্য গোপাল কুণ্ডু।

এদিন সবার শুরুতে মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাল্যদান করেন প্রভাস ঘোষ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারপর দলের তরুণ কমিউনিস্ট সংগঠন কমসোমলের ১০০ জন প্রতিনিধি মহান নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অফ অনার প্রদর্শন করেন৷