Date : 2024-02-24

ঐতিহাসিক মারাকানায় আর্জেন্তাইন সমর্থকদের বেধরক মার ব্রাজিল পুলিশের

বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনপর্বের ম্যাচে কলঙ্কিত ফুটবল। ঐতিহাসিক মারাকানায় আর্জেন্তাইন সমর্থকদের বেধরক মার ব্রাজিল পুলিশের। ম্যাচের আগে ব্রাজিল ও আর্জেন্তাইন সমর্থকরা বচসায় জড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আর্জেন্তাইন সমর্থকদের ওপর লাঠি হাতে চড়াও হয় ব্রাজিল পুলিশ। ম্যাচ নির্দিষ্ট সময় শুরু করাই যায়নি। ম্যাচে 1-0 গোলে জেতে আর্জেন্তিনা। এরপর মেসি বলেন, এর আগেও ব্রাজিলে আর্জেন্তাইন সমর্থকদের মারা হয়েছে। এভাবে চললে ব্রাজিলে ম্যাচ খেলা অসমভব।

বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে ব্রাজিলের মারাকানায় মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্তিনা এবং ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগেই আগুন জ্বলল স্টেডিয়ামের বাইরে। দুই দলের সমর্থকদের মারামারিতে খেলা শুরুই করা গেল না নির্দিষ্ট সময়। ঐতিহাসিক মারাকানা কলঙ্কিত হল, পুলিশ, সমর্থকদের হাতাহাতিতে। পুলিশের সঙ্গে আর্জেন্তাইন সমর্থকদের বিভৎস মারামারি হল। পুলিশের লাঠিতে মাথা ফাটল খেলা দেখতে আসা দর্শকদের। এই চিত্র দেখে চুপ থাকতে পারেননি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনার তারকা লিওনেল মেসি। মাঠ থেকে সকল ফুটবলারদের নিয়ে উঠে যান তিনি। বিষয়টি দেখে কার্যত হতবাক হয়ে পড়েন মেসি , ডি পল, এদার মিলিতাওরা। ব্রাজিল সমর্থকরাও আহত হন পুলিশের লাঠির ঘায়ে। খেলার মাঠে সমর্থকদের কটুক্তি বা হাতাহাতি নতুন নয়। কিন্তু মারাকানার মতো ঐতিহ্যশালি স্টেডিয়ামে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সমর্থকদের এভাবে মার খাওয়া এবং ম্যাচ শুরুতে বিলম্ব হওয়া সচরাচর দেখা যায় না। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যে বাধ্য হয়ে লিওনেল মেসি এবং এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে দেখা যায় পুলিশের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে। যাতে সমর্থকদের আর লাঠির বারি না মারতে পারে পুলিশ। কারণ ততক্ষণে বহু নিরস্ত্র সমর্থকের মাথা ফেটেই রক্ত বেড়োচ্ছিল। এই প্রথম বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনপর্বে ঘরের মাঠে কোনও ম্যাচে হারল ব্রাজিল। গত 70 বছরে দুবার ঘরের মাঠে হেরেছে ব্রাজিল, দুবারই লিওনেল মেসির আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে। ব্রাজিল পুলিশ এই ম্যাচে আর্জেন্তাইন সমর্থকদের যেভাবে মারল, তাতে বিশ্বের সব প্রান্তেই তাদের সমালোচনা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ফিফাও চিন্তায় পড়ে গেছে ফিরতি লেগে আর্জেন্তিনায় গেলে এমন আচরনের মুখে পড়তে হবে না তো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের। বিশ্বফুটবলে খেলোয়াড় বা সমর্থকদের মারামারি নতুন নয়। দঃ আমেরিকার ফুটবল সমর্থকরা একটু বেশি উগ্র মেজাজের তা বলাই বাহুল্য। তাই বলে পুলিশ এভাবে নিজেদের ধৈর্য্য হারাবে ? তা মোটেই গ্রহনযোগ্য নয়। সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো সুপ্রশিক্ষিত পুলিশ কি বর্তমানে ব্রাজিলে নেই ? কারণ 2014 সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলেই তো ফাইনালে উঠেছিল এই আর্জেন্তিনা। তখন তো এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবার তো আর্জেন্তাইন, ব্রাজিলিয়ান সমর্থদের থেকেও বেশি অপ্রীতিকর কাজ করে বসল ব্রাজিল পুলিশ।