Date : 2024-02-24

Kolkata High Court : হাওড়ার জেলাশাসককে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় থানার মধ্যেই আইনজীবীকে বেধড়ক মার পুলিসের। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন করতে দিতে হবে মোটা টাকার ঘুষ। পুলিস অফিসারদের দাবি না মানায় থানার মধ্যেই এক আইনজীবীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। হাওড়ার শ্যামপুর থানার এই ঘটনায় অবশেষে হাওড়ার জেলা শাসককে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

মামলার বয়ান সূত্রে জানা গিয়েছে, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য পেশায় হাইকোর্টের আইনজীবী চিরঞ্জিৎ পালকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, গত ৫ নভেম্বর থানায় যাওয়ার পর পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাঁর কাছ থেকে মোটা টাকা ঘুষ চান থানায় উপস্থিত সাব ইনস্পেক্টর মাসুদ রানা সর্দার। কিন্তু ঘুষ দিতে প্রবল আপত্তি জানান চিরঞ্জিৎ। এরপরই ওই সাব ইনস্পেক্টরের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরই তাঁর উপর চড়াও হয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা। মাসুদ রানা সর্দারের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে থাকা আরও দুই ব্যক্তি চিরঞ্জিৎকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। সঙ্গে চলতে থাকে অকথ্য গালিগালাজ। টাকা না দিলে তাঁর পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন হবে না বলে জানিয়ে দিয়ে শেষমেশ তাঁকে থানা থেকে কার্যত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়।

চিরঞ্জিতের আরও অভিযোগ, এরপর শ্যমপুর হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে থানার চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা করতে আপত্তি জানায়। সবশেষে কমলপুর বিপিএইচসি পিছালদহ হাসপাতালে গেলে তাঁর চিকিৎসা হয়। কিন্তু ওই সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন চিরঞ্জিৎ।

বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে মামলার শুনানিতে গোটা বৃতান্ত তুলে ধরেন চিরঞ্জিতের আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী ও সূর্যনীল দাস। রাজ্যের তরফে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী বিশ্বব্রত বসু মল্লিক। গোটা ঘটনা শোনার পর হাওড়ার জেলা শাসককে তদন্ত করে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি মান্থা। সেইসঙ্গে ঘটনার দিনের সিসিটিভ ফুটেজ সংরক্ষণ ও তা সিডি মারফত আদালতে পেশের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি মান্থা। ২৮ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।