Date : 2024-02-25

National Anthem Controversy : জাতীয় সঙ্গীত অবমাননা মামলায় হাইকোর্টে স্বস্তি বিজেপি বিধায়কদের

National Anthem

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। পুলিশের নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল আদালত। সোমবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের নির্দেশ, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। পুলিশ যে সমন পাঠিয়েছিল তাও স্থগিত থাকবে।

বিজেপি বিধায়কদের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন গত ২৯ নভেম্বর বিধানসভার বাইরে বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার (National Anthem Controversy) অভিযোগ ওঠে। বিধানসভার স্পিকার পুলিশকে পদক্ষেপ করতে বলেছেন।

হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। কিন্তু আইন মেনে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এটা অপরাধযোগ্য নয়। সঠিক ভাবে জাতীয় সঙ্গীত করা উচিত। তা করার আমাদের কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। জাতীয় সঙ্গীতের শিষ্টাচার রয়েছে তা অবলম্বন করা হয়নি।

তা ছাড়া বলা হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীতের সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কাদের বাধা দেওয়া হয়েছিল স্পষ্ট করে তা বলা নেই।

এই মামলায় কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা তদন্ত শুরু করেছে।

বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের পর্যবেক্ষণ ছিল

অম্বেডকর মূর্তির সামনে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে তৃণমূল বিধায়করা ধর্না কর্মসূচি পালন করেন। আর বিধানসভার গেটের সামনে থেকে বিরোধীরা পাল্টা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। অর্থাৎ, দুটো ঘটনাই প্রায় একই সঙ্গে শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত ( National Anthem) শুরু হতেই স্লোগান দেওয়া শুরু হয়েছে এমনটা নয়। ফলে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় সঙ্গীতের সময় বাধা বা বিরক্ত করা কী ভাবে হয়েছে?

বিচারপতির মন্তব্য, জাতীয় সঙ্গীতের জন্য শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত। হঠাৎ করে জাতীয় সঙ্গীত শুরু করা যায় না। এখানে হঠাৎ করে কেউ যদি জাতীয় সঙ্গীত শুরু করেন, তা হলে তো সব কাজ বন্ধ করে সবাইকে দাঁড়িয়ে পড়তে হবে। এমনটা করা যায় না কি? অবশ্যই জাতীয় সঙ্গীতের জন্য একটা নিয়ম বা শিষ্টাচার রয়েছে।

বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর মন্তব্য সাধারণ মানুষ কী ভাবছে? কয়েক লাখ টাকা খরচ করে মামলা হচ্ছে। খুনের অভিযোগে পুলিশ এফআইআর নেয় না এমন উদাহরণ আমার কোর্টে রয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগের সঠিক ভাবে তদন্ত করে না পুলিশ। জাতীয় সঙ্গীত অবমাননা নিয়ে দ্রুত মামলা দায়ের হয়ে গেল। আগে থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল কিনা তাও স্পষ্ট নয়। এই ধরনের ছেলেমানুষী মামলার জন্য কত মামলা আটকে রয়েছে। স্লোগান হচ্ছিল দেখেও জাতীয় সঙ্গীত করার কী দরকার ছিল?

রাজ্যের আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান যে কেউ জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারেন। এটা মৌলিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

বিচারপতি: হ্যাঁ, কিন্তু কোন পরিবেশ সেটা মাথায় রাখতে হবে। যখন খুশি জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া যায় না। নিয়মে স্পষ্ট বলা রয়েছে, জাতীয় সঙ্গীতের নির্দিষ্ট decorum থাকতে হবে।

ফের রাজ্যের আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন রাজ্যের অনেক মন্ত্রী উপস্থিত রয়েছেন। সরকারি অনুষ্ঠানের মতো। সেখানে জাতীয় সঙ্গীত করা হয়েছে।

ফের বিচারপতি সেন গুপ্ত সব অনুষ্ঠানের সঙ্গে এটাকে গুলিয়ে ফেলবেন না। মন্ত্রী উপস্থিত রয়েছে বলে জাতীয় সঙ্গীত শুরু হয়ে গেল? শহরের পাঁচতারা হোটেলে মন্ত্রী উপস্থিত রয়েছে বলে কী জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে?

কিশোর: সেটা না। কিন্তু জাতীয় সঙ্গীত চলছে জেনেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিচারপতি: তা হলে আপনাদের কথা মতো বলতে হবে, রাস্তার ওখানে মারামারি হচ্ছে। মাইকে ঘোষণা করলাম জাতীয় সঙ্গীত হবে। তা হলে কি মারামারি থেমে যাবে? না অবমাননা হবে?

সোমবার মামলার কেস ডায়েরি আদালতে দেখাতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনার তদন্ত চলুক। আসল ঘটনা কী হয়েছে তা জানা যাবে। এবিচারপতি: ঘটনাটি পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছি না।

বিচারপতি: পরের দিন পুলিশকে কেস ডায়েরি নিয়ে আসতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।

আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন পুলিশকে কেস ডায়েরি নিয়ে হাজির হতে হবে।