Date : 2024-05-27

নববর্ষ উপলক্ষে চলছে কেনাকাটা।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ। এই দিনটি বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য মেলবন্ধন। এই দিনটিতে বাঙালীরা নতুন জামা পরে যেমন উৎসবে মেতে ওঠে। তেমনই বাঙালী ব্যবসায়ীরা দোকানে দোকানে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করে হালখাতার সূচনা করে।

পয়লা বৈশাখ হোক বা নববর্ষ। দুটো শব্দের মানে দাঁড়ায় বাংলা নতুন বছর। বাঙালিদের কাছে নববর্ষের প্রথম দিনটির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এদিন বাঙালিরা তাঁদের শিকড়ের টানে ফিরে যান। বাংলা ও বাঙালিত্বের সাথে উদযাপন করা হয় এই দিনটিকে। এদিন নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে উত্‍সবে মেতে ওঠেন বাংলার মানুষ। বাঙালির নিজস্ব পোশাক, খাওয়া-দাওয়া ও সংস্কৃতির মাধ্যমে উদযাপন করা হয় এইদিনটি। বলা যেতেই পারে পয়লা বৈশাখের দিন বাঙালিরা যেন আরও একটু বেশি বাঙালি হয়ে ওঠেন। এই দিনটিকে উপলক্ষ্য করে চলছে কেনাকাটা।

বাংলার ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রথমদিনটি খুবঔ গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনটাকে হালখাতা হিসেবেও পালন করে থাকেন তারা। দোকানে দোকানে এদিন লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করা হয় ও তার সঙ্গে ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করানোর প্রথা প্রচলিত আছে। সেই পরম্পরাকে বজায় রাখতে আগের বছরের বাজারদর বেশী হলেও চলছে ব্যবসায়ীদের কেনাকাটা।

কথিত আছে পয়লা বৈশাখের ইতিহাস ষোড়শ শতাব্দীতে মুঘল যুগ থেকে শুরু। মুঘল সম্রাট আকবর ফসল কাটার মরশুমের উপর ভিত্তি করে একটি নতুন কর ব্যবস্থা চালু করেন। আর তখনই কর জমা দেওয়ার সময়ের উপর ভিত্তি কর নতুন ক্যালেন্ডার শুরু হয় বলে অনেকে মনে করেন। যখন এই নতুন ব্যবস্থা শুরু হয় তখন ছিল চৈত্র মাস। আর এই চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সব খাজনা, মাশুল পরিশোধ করার রীতি প্রচলিত হয়। সমস্ত কর পরিষদের পর্ব শেষ হওয়ার পর জমিদাররা প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। সব মিলিয়ে এই দিন উত্‍সবমুখর হয়ে উঠত। আর ইতিহাসবিদদের মতে, সেই থেকেই এই দিনটি বিশেষ ভাবে পালন করার রীতি প্রচলিত হয়। যা আজও বজায় রয়েছে। বাংলা ক্যালেন্ডারের বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে হালখাতা।