Date : 2024-05-26

শিশুদের মুঠোফোনের প্রতি আসক্তি কি ভাবে কমবে। এর জন্য কি করনীয় অভিভাবকদের।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : আমাদের ডেইলি লাইফে মুঠোফোন একটা বড় জায়গা করে নিয়েছে। সমস্ত তথ্য মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে এই মোবাইল। মনখারাপ হোক বা ভালো সব কিছুর সঙ্গী হয়ে উঠেছে এই মুঠো ফোন। তবে বর্তমানে প্রঊান সমস্যা হয়ে উঠেছে বড়দের দেখাদেখি ছোটোরাও এই মোবাইলে আশক্ত হয়ে পড়ছে। যা খুবই চিন্তার বিষয় বলে মত বিশেষজ্ঞমহলের।

শুধুমাত্র স্কুল পড়ুয়া নয়। একবছরের ছোট্ট খুদেটিও মোবাইল ফোনের শব্দ শুনলে খেলনা থেকে মুখ ফিরিয়ে মোবাইল দেখতে ব্যস্ত থাকছে। চোখের সামনে ফোন না ধরলে নাওয়া, খাওয়া, ঘুমোনো কোনও কিছুই সময় মতো করতে চাইছে না। অন্যদিকে মোবাইল হাতে ধরিয়ে দিলে কিছু ক্ষণের জন্য অভিভাবকেরাও নিশ্চিন্ত থাকছেন। অভিভাবকেরা মনে করছেন খুদেকে কিছুক্ষণ ভুলিয়ে রেখে বাড়ির কাজ সামলে নেওয়া যায়। তুলনায় একটু বড় খুদেদের তো বর্তমানে আরও বেশি মজা।

করনার পর থেকে তাদের পড়াশোনার অনেকটাই কম্পিউটার কিংবা মোবাইল নির্ভর হয়ে পড়েছে। তাই চাইলেও বাবা-মায়েরা সব সময় খুদে শিক্ষার্থীদের মোবাইল থেকে বিরত রাখতে পারেন না। প্রসঙ্গত অনেক বাবা-মা মনে করেন, বাইরে গিয়ে মাঠে-ঘাটে হাত-পা কেটে ছড়ে আসার চেয়ে তো ভাল মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকা ভালো। তবে এই মোবাইলের জন্য সমস্যাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অত্যধিক মোবাইল-আসক্তির কারণে অনিদ্রা, চোখের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে খুদেরা। কায়িক পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। ফলে অল্প বয়সেই স্থূলত্বের মতো সমস্যা গ্রাস করছে তাদের। ডিজিটাল ডিভাইসে মুখ গুঁজে বসে থাকার অভ্যাস খুদেদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। কোনও কোনও সময় শিশুরা অনেক বেশি হিংসাত্মক আচরণ করে— এর পিছনেও অনেক ক্ষেত্রেই ডিজিটাল-আসক্তিকেই দায়ি করছেন চিকিৎসকেরা। খুদেদের মোবাইলের প্রতি আসক্তি কাটাতে প্রথম পদক্ষেপ বাবা – মায়েদেরই নিতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞমহলের।

বিশেষজ্ঞমহলের বক্তব্য,যখন-তখন নয়, কোনও একটি নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে স্মার্টফোন বা মোবাইল ব্যবহার করার অনুমতি দিতে হবে। অনুমতি দিলেও শিশু মোবাইলে তখন কি দেখছে সেদিকেও নজর রাখতে হবে বাবা মায়েদের। অনলাইনে ক্লাস করার সময়ও শিশুদের নজরে রাখা উচিত। এ ছাড়া স্মার্টফোন থেকে আপত্তিকর ওয়েবসাইটগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শিশুর স্মার্টফোনের আসক্তি কাটাতে বাবা- মা উভয়ের দায়িত্ব। তাই আপনাদের ওর জন্য সময় বার করে নিতে হবে। ওর জন্য দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ে শিশুর মনের কথা শোনা,শিশুর সঙ্গে খেলা, গল্প করার মত কাজ করতে হবে। ঘুমোনোর ঘন্টাখানেক আগে থেকে শিশু যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।