Date : 2024-05-26

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পাইলটের ১০৩ বছরে জীবনবসান

সঞ্জনা লাহিড়ী, সাংবাদিক – তখন ব্রিটিশ শাসন। পৃথিবীজুড়ে চলছে ভয়াবহতা। বিমানের ককপিটে বসে প্রথমবার পাইলটের আসন পেয়েছিলেন দালিপ সিং মাজিথিয়া। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলেও ককপিট, যন্ত্রের ঘড়ঘড়ানি ও শত্রু ঘাঁটিতে ঢুকে জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া বদলায়নি বায়ুসেনা বাহিনীর। কর্মজীবন থেকে বহু আগে অবসর নিয়েছেন তিনি। এবার জীবনযুদ্ধ থেকে ছুটি নিলেন দেশের সবচেয়ে প্রবীণ পাইলট দালিপ সিং মাজিথিয়া। মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে নিজের বাড়িতে মৃত্যু হল মাজিথিয়ার।

দেশের সবচেয়ে প্রবীণ স্কোয়াড্রেন লিডারের মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হল বায়ুসেনার একটি যুগ। ২৭শে জুলাই ১৯২০ সালে সিমলায় জন্ম নেন দালিপ সিং মাজিথিয়া। বন্ধু মহলে মাজি নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। অবিভক্ত পাকিস্তানের লাহোরে বায়ুসেনার ট্রেনিং নিয়েছিলেন দালিপ সিং। বায়ুসেনার কেরিয়ারে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি সেখানেই। মিলেছিল শ্রেষ্ঠ পাইলটের পুরস্কার।

৫ই অগাস্ট ১৯৪০ সালে ব্রিটেনের দুই প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রথমবার বিমানের ককপিটে বসেন তিনি। এর ঠিক ২ সপ্তাহ পর একা বিমান চালানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয় তাঁকে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০। এরপর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি দালিপ সিং মাজিথিয়াকে। সময়টা তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। বিশ্বের বায়ুসেনার ইতিহাসে বেশ চ্যালেঞ্জিং সময় ছিল এই সময়টা। সেখানেই তিনি পেয়েছিলেন সাফল্য। শত্রু শিবিরে ঢুকে চুরমার করে দিয়েছিলেন একের পর এক শত্রু ঘাঁটি। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “স্কোয়াড্রন লিডার দালিপ সিং মাজিথিয়ার কর্মজীবন এবং বীরত্ব অনুকরণযোগ্য। তিনি দেশের সেবা ও দেশের প্রতি নিজেকে উৎসর্গের সর্বোচ্চ উদাহরণ। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য এক বিশাল ক্ষতি। তাঁর অবদান সর্বদা অনুপ্রেরণার হয়ে থাকবে। ওঁর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা। তাঁর আত্মার শান্তি প্রার্থনা করি।”