মাম্পি রায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২০২৪-এর অগাস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর যে হারে অত্যাচার হয়েছে, তা ইতিমধ্যে সারা বিশ্ব দেখে ফেলেছে। শুধুমাত্র এখানেই শেষ নয়, মহম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে হারে ভারতবিরোধী স্লোগান ও মন্তব্য উঠে এসেছে তার কোনও বিরোধিতাই করেননি মহম্মদ ইউনুস। এরইমধ্যে ইউনুসের চিন সফর। চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসে ইউনুস সরকারের তরফে। চিন নয় ভারত সফরের ইচ্ছেই ছিল ইউনুসের। চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, চিন সফর চূড়ান্ত করার আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ভারতেই যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নয়াদিল্লি নাকি সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি। সেজন্যই চিন সফর বেছে নেন ইউনুস। ২ থেকে ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু তাতেও আগ্রহ দেখায়নি ভারত। হাসিনার দেশত্যাগের পর দীর্ঘদিনের বন্ধু বাংলাদেশ থেকে যেসব ভারতবিরোধী ছবি উঠে এসছে, তাতে করে বাংলাদেশের সঙ্গে সাক্ষাতে ভারতের আগ্রহ না দেখানোটাই খুব স্বাভাবিক। একটি সাক্ষাৎকারে শরিফুল বলেন, “চিন নয়, ভারতস সফরই প্রথম পছন্দ ছিল প্রধান উপদেষ্টার। তাই গত ডিসেম্বরে ভারতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই ব্যাপারে ভারতের তরফে কোনও ইতিবাচক বার্তা মেলেনি।” তাই মুখোমুখি বসে আলোচনাও সম্ভাবনা হয়নি মোদি-ইউনুসের।
২০২৪-এর ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে পতন হয় হাসিনার সরকারের। ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে শপথ নেন মহম্মদ ইউনুস। ৮ মাস হয়ে গেলেও এখনও তাঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি নরেন্দ্র মোদীর। গত সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন মোদী। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন ইউনুসও। অধিবেশনের ফাঁকে মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর দুজনের সাক্ষাৎ হয়নি। তবে তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় দুজনের মধ্যে। কিন্তু নমোর সঙ্গে বৈঠক হয়নি ইউনুসের। তবে দুজনের সাক্ষাৎ সম্ভব না হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ইউনুসকে বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী। চিঠিতে মোদী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই দিনটি আমাদের দু’দেশের ইতিহাস এবং ত্যাগের প্রতীক। এই দিন আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের সম্পর্কের জন্য একটি পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে চলেছে। যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকশিত হয়েছে। আমাদের দেশের জনগণের জন্যও এই দিনটি ঐতিহাসিক। শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধির জন্য এবং একে অপরের স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে এই অংশীদারিত্বকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই বার্তায় এটা স্পষ্ট যে, তিনি ইউনুসকে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব ও ভারতের অবদান স্মরণ করিয়ে দিলেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়ে আসার পর থেকেই নতুন বাংলাদেশের ধারণা ভাসিয়ে দিয়েছেন ইউনুস। তার পাশাপাশি মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে মুজিবুর রহমানের স্মৃতি। কখনও বিদ্রোহীদের কাজে লাগিয়ে মুজিবের একাধিক মূর্তি ভেঙে ফেলা, কখনও মুজিবের ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাও বদলে ফেলছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। এখানেই শেষ নয় পাঠ্যবইতে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকেও ছোট করে দেখানো হচ্ছে। মুছে ফেলা হচ্ছে মুজিবুর রহমানের কৃতিত্ব এবং শেখ হাসিনার চ্যাপ্টারও। বাংলাদেশের জাদুঘরেও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত ইতিহাস পাল্টে ফেলার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ বদলের যে কর্মকাণ্ড ইউনুস শুরু করেছেন, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ইউনুসকে লেখা নরেন্দ্র মোদীর চিঠি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।