মাম্পি রায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাড়িতে পোড়া টাকার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে এত পরিমাণ নোট কে, কে এবং কী উদ্দেশে সেখানে জমা করা হল? বিচারব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে এই ঘটনার পর।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাড়ি থেকে আধপোড়া অবস্থায় বিপুল টাকা উদ্ধারের অভিযোগ উঠতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। হোলির ছুটি চলাকালীন বিচারপতি ভার্মার বাড়ি থেকে প্রচুর নগদ টাকা উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। বিচারপতির সরকারি বাংলোয় আগুন লাগে বলে দমকলে খবর দেওয়া হয়। সেখানে আগুন নেভাতে গিয়ে আধপোড়া ১৫কোটি টাকার হদিশ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। দমকলকর্মীরা প্রচুর আধপোড়া নোট দেখতে পান বলেও দাবি করা হয়। যদিও ওই সময়ে বিচারপতি যশবন্ত বর্মা শহরে ছিলেন না। তবে কি বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অনুপস্থিতিতেই সেখানে ওই টাকা রাখা হয়েছে, নাকি অন্যকিছু ? জল্পনা চলছেই।
এরইমধ্যে নোটকাণ্ডের আবহে ২৩ মার্চ দুপুরে সাফাইকর্মীরা দাবি করেন, তাঁরা বিচারপতি বর্মার বাসভবনের কাছে আবর্জনা পরিষ্কার করার সময়ে ময়লার স্তূপের মধ্যে কিছু আধপোড়া নোটের টুকরো খুঁজে পেয়েছেন।
বিচারপতির আউটহাউজে নোটকাণ্ডের জেরে বিতর্ক ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বিচারব্যবস্থা নিয়েও। এই মামলার অনুসন্ধানের জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করেছে সুপ্রিমকোর্ট। কমিটিতে তিনটি হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতি রয়েছেন। বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গড়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। এর মধ্যে রয়েছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শীল নাগু, হিমাচলপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জিএস সান্ধাওয়ালিয়া এবং কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি অনু শিবরমন। এই তদন্ত কমিটি বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য বলে মনে করলে তদন্ত কমিটি তদন্তের রিপোর্ট সংসদে পাঠাবে, যেখানে বিচারককে অপসারণের প্রস্তাব আনা হতে পারে বা ইম্পিচমেন্ট করা হতে পারে।
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নির্দেশে, বিচারপতি ভার্মার বাড়ির ভিতরের ছবি এবং ভিডিও সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। এরইসঙ্গে এবিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায়ের রিপোর্টও জনসমক্ষে আনা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন নথিপত্রও আপলোড করা হয়েছে ওয়েবসাইটে। জনসাধারণের যাতে আদালতের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকে, সেজন্য প্রধান বিচারপতি এই মামলার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত রেকর্ড জনসমক্ষে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন। সুপ্রিমকোর্টের ইতিহাসে এই প্রথম মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত রেকর্ড জনসমক্ষে প্রকাশ করা হল।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই সময় বিচারপতি বাড়িতে ছিলেন না। পরিবারের তরফে দমকল এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা একটি ঘরে প্রচুর পরিমাণে নগদ অর্থ খুঁজে পান বলে জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে আপাতত বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা কোন বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিচারপতি ভার্মা জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য কখনও বাড়ির স্টোর রুমে কোনও নগদ অর্থ রাখেননি। গোটা ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন বিচাপতি ভার্মা। তিনি জানিয়েছেন, আমি বা আমার পরিবারের কেউ ওই ঘরে টাকা রাখেননি। যে স্টোররুমে ওই টাকা পাওয়া গিয়েছে, তা বাংলোর কর্মী, মালি এবং পিডব্লিউডি স্টাফদেরও ঢোকার অধিকার ছিল। আমার ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন বিচারপতি ভার্মা। যেখানে টাকা পোড়ানো হয়েছে, তা বিচারপতির বাড়ির সঙ্গে মিলছে কিনা তা জানতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেবে সুপ্রিমকোর্টের তৈরি করা কমিটি?
বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাড়িতে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আর কী কী তথ্য় উঠে আসে সেদিকে আমাদের নজর থাকবে। জট কতদিনে কাটাতে পারে সুপ্রিমকোর্টের গড়ে দেওয়া বিচারপতিদের কমিটি। সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়।