বন্ধু হিসাবে ভারত-রাশিয়াকে চিনের কাছে হারানোর আশঙ্কা ট্রাম্পের গলায়! সমাজমাধ্যমে কি লিখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্যারিফ যুদ্ধ এখনও অব্যাহত। আর এর মধ্যেই নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন, এবং শি জিনপিংয়ের ছবি পোস্ট করে যা লিখলেন তিনি, তা নিয়ে এই মুহূর্তে চলছে জোর জল্পনা।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ৫ সেপ্টেম্বরের বিকেলে হঠাৎ হইচই ফেলে দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে তাঁরই লেখা একটি পোস্ট। একটি ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প, তাতে রয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ছবির ক্যাপশনেই ট্রাম্প লিখেছিলেন, “দেখে মনে হচ্ছে ভারত ও রাশিয়াকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেললাম। ওদের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

সম্প্রতি এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে চিনে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়। আলাদা করে জিনপিং এবং পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মোদী। এই দুই দেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কের বার্তা দেওয়া হয়। প্রথম থেকেই চিনের তিয়ানজিন শহরে এই তিন রাষ্ট্রপ্রধানের সাক্ষাৎকে কটাক্ষ করে আসছিলেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি মোদী, পুতিন এবং জিনপিংয়ের ওই সম্মেলনের একটি ছবি পোস্ট করলেন। লিখলেন শুধু দু’টি লাইন, ‘‘মনে হচ্ছে, আমরা ভারত আর রাশিয়াকে গভীরতম, অন্ধকারতম চিনে হারিয়ে ফেলেছি। ওদের ভবিষ্যৎ দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ হোক, এই কামনা করি।’’

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই পোস্ট নিয়ে কিছু বলার নেই এখনও পর্যন্ত।’ এর আগে প্রাক্তন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেছেন, ট্রাম্প ও মোদির সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার ফের ট্রাম্পকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গেল। রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। দুই দেশের বাণিজ্য তাতে ধাক্কা খেয়েছে। ভারতের পণ্যে এখন মার্কিন শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। সেই ঘনিষ্ঠতাই কি আঘাত দিল ট্রাম্পকে? উত্তর যদিও অধরাই।