ক্ষোভ আর হিংসার আগুনে জ্বলছে নেপাল। কোন পথে ফিরবে শান্তি? উত্তরের দিকে তাকিয়ে সকলেই। এই আবহের আঁচ এসে পড়ল কলকাতার সোনাগাছিতেও।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জেন জি-দের বিক্ষোভের আগুনে এই মুহূর্তে জ্বলছে নেপাল। বুধবারও পরিস্থিতির এতটুকুও উন্নতি হয়নি। এবার এই অশান্তির আঁচ এসে পড়ল কলকাতাতেও। এই মুহূর্তে চিন্তার মেঘ কলকাতার সোনাগাছি অর্থাৎ নিষিদ্ধ পল্লীতে।

কলকাতার সোনাগাছি, কালীঘাট, অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিট, দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিট, ইমাম-বক্স লেন, সুরকি গলিতে বহু যৌনকর্মী নেপাল থেকে এসেছেন। অনেকের সঙ্গেই পরিবারের যোগাযোগ রয়েছে নিয়মিত। এই মুহূর্তে নেপালের যা পরিস্থিতি তার জেরে বাড়ির সঙ্গে কোনভাবেই কোন যোগাযোগ করতে পারছেন না কলকাতায় বসবাসকারী নেপালি মহিলারা। ফোন করলেও তা যাচ্ছে না। ফলে চিন্তার কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে তাঁদের ঘর। দেশে অস্থিরতার কারণে তাঁরা কোনভাবেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। টাকা পাঠানোও বন্ধ। আবার এখন দেশে ফেরার পথও বন্ধ। সীমান্ত আটকে দেওয়া হয়েছে, আপাতত বন্ধ বিমানবন্দরগুলিও। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গোটা নেপালের আকাশপথ স্তব্ধ। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কেউ জানেন না।

যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যে সংগঠন অর্থাৎ দূর্বার এবং যৌনকর্মীদের সন্তানদের সহায়তাকারী সংগঠন আমরা পদাতিক, দুই তরফেই জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক এবং কলকাতার নেপালি যৌনকর্মীরাও এই মুহূর্তে যথেষ্ট চিন্তার মধ্যেই রয়েছেন, বারবার মোবাইলে চোখ রাখছেন তাঁরা কখনও পরিস্থিতির হাল হকিকত জানতে আবার কখনও বা বাড়ির মানুষদের গলা শুনতে পাওয়ার আকুতিতে। বুধবার এই দুই সংগঠনের তরফে বৈঠক করা হবে কিভাবে এই মানুষগুলোকে সহায়তা করা যায় সেই বিষয়ে।
মঙ্গলবার যত বেলা গড়িয়েছে, ততই উত্তেজিত জনতার হাতে চলে গিয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডু। সংসদ ভবন, সিংহদুয়ার, মন্ত্রীদের বাসভবন ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টেও আগুন লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীরা পুড়িয়ে দিয়েছে নেপালের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারির বাড়িও। এমন পরিস্থিতিতেই প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন।কিন্তু তবুও শান্ত হয়নি নেপাল। বুধবারও পরিস্থিতি যথেষ্ট থমথমে। শান্ত হোক নেপাল এমনটাই চাইছেন সকলে।