খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের সারপ্রাইজ ভিজিট

চরম অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নামী রেস্তোরাঁয়।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বারুইপুরের জনপ্রিয় খাবার দোকান ‘রাস্তা পাস্তা’-য় সম্প্রতি খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের একটি সারপ্রাইজ ভিজিট বা আকস্মিক অভিযানে চরম অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ছবি ধরা পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র বারুইপুর শহর ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।​অভিযানে প্রাপ্ত মূল অনিয়ম ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রী​অভিযান পরিচালনাকারী খাদ্য সুরক্ষার আধিকারিকরা রেস্তোরাঁটির রান্নাঘর ও স্টোর রুমে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মারাত্মক অনিয়ম চিহ্নিত করেছেন:​পচা ও বাসি খাবার উদ্ধার: রান্নাঘরের ডিপ ফ্রিজ ও পাত্র থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত পচা মাংস, দুর্গন্ধযুক্ত বিরিয়ানির আলু, ফাংগাস বা ছত্রাক ধরা পকোড়া এবং পচা মোমো উদ্ধার করা হয়।​মেয়াদোত্তীর্ণ দুগ্ধজাত পণ্য: খাদ্য তৈরির কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা ডেট এক্সপায়ারড (মেয়াদোত্তীর্ণ) দুধের প্যাকেট হাতেনাতে ধরে ফেলেন আধিকারিকরা।​অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নাঘরের ভেতরে নিকাশি ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ, নোংরা মেঝের ওপর খোলা অবস্থায় রাখা খাদ্যসামগ্রী এবং মাছি-পোকা মাকড়ের উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়। স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিন সংক্রান্ত কোনো নিয়মই মেনে চলা হচ্ছিল না।​স্থানীয় বাসিন্দা ও গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া​সাধারণ মানুষের প্রিয় একটি রেস্তোরাঁয় নিয়মিত যে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছিল, তাতে পচা আলু বা ফাংগাস ধরা পকোড়ার মতো জিনিস উদ্ধার হওয়ায় স্তম্ভিত স্থানীয় গ্রাহকরা। ডাইনিং স্পেস বাইরে থেকে পরিচ্ছন্ন দেখালেও রান্নাঘরের পেছনের এই কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ পাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।​পরবর্তী পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা​খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে:​১. নমুনা পরীক্ষা (Sample Testing): বাজেয়াপ্ত করা পচা খাবার ও মেয়াদের বাইরে থাকা দুধের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।২. কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show-Cause Notice): রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পচা খাবার মজুত রাখার বিষয়ে জবাবদিহির নোটিশ জারি করা হয়েছে।৩. সাময়িক সিল বা লাইসেন্স বাতিল: খাদ্য নিরাপত্তা আইন (FSSAI) মেনে উপযুক্ত ব্যাখ্যা না মিললে বা ল্যাব রিপোর্ট বিপজ্জনক এলে রেস্তোরাঁটির লাইসেন্স সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে।​প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বারুইপুর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্যান্য রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এই ধরণের আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।