Date : 2021-06-20

সিন্ধুলিপি পাঠোদ্ধারে দিশা দেখালেন এই বাঙালী কন্যা….

ওয়েব ডেস্ক: কর্মসূত্রে ভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত হলেও অনেকেরই আগ্রহ থাকে সৃজনমুলক বিষয়ে। অবসর সময় সেই সৃজনশীলতা নিয়ে কাটাতেও ভালোই লাগে। পেশায় আইটি কর্মী বহতা অংশুমালী মুখোপাধ্যায়ের আগ্রহ শুনলে অবাক হবেন। তাঁর আগ্রহ সিন্ধুলিপি পাঠোদ্ধারে। আর এই অনুসন্ধানী মন শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতির দরজায় পৌঁছে দিল তাঁকে। নেচার ব্র্যান্ডের পত্রিকা প্যালগ্রেভ কমিউনিকেশন্স বাঙালী মেয়ে বহতার সিন্ধুলিপির পাঠোদ্ধার নিয়ে কাজ প্রকাশ করেছেন এই জুলাই মাসেই।

ওপেন অ্যাক্সেস এই জার্নালে তাঁর “Interrogating Indus inscriptions to unravel their mechanisms of meaning conveyance” শীর্ষক লেখাটি (Palgrave Communications, volume 5, Article number: 73, 2019) পড়ে দেখতে পারেন। এই প্রবন্ধে তিনি সিন্ধুলিপি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, সিন্ধুলিপি পাঠোদ্ধারের প্রকৃতিনির্ধারন নিয়ে তিনি আলোকপাত করেছেন।

তাঁর কথায়, “সিন্ধুলিপির বহুরকমের পাঠপ্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগই যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ফলসিফায়েবল তা ঠিক নয়। অধিকাংশই একে অন্যের নিয়ম মানেন না, বা অন্যকে খণ্ডনও করেন না, শুধুই নিজের পথের কথা বলে চলে। আমি এই প্রক্রিয়ার মাঝে দাঁড়িয়ে গাণিতিক প্রমাণের মতই অকাট্য একটি ইন্টারডিসিপ্লিনারি পদ্ধতিতে করা প্রমাণ পেশ করেছি, একই সঙ্গে চিহ্নগুলিকে শ্রেণিকরণের কাজটাও করেছি। এতে পরবর্তীকালে পাঠোদ্ধারের কাজে সুবিধা হবে।” প্রথম প্রথম এই বিষয়গুলি নিয়ে তিনি কাজ করতে চাইলেও হাতছাড়া হয়ে যায়।

কিন্তু বহতা শেখানেই শেষ করে দেননি তাঁর কাজ। অফিসে একমাসের ছুটি নিয়ে তিনি কাজ করতে শুরু করেন। সিন্ধুলিপি নিয়ে যা যা সন্দেহ ছিল সেগুলো জাভা প্রোগ্রামিং-এর মাধ্যমে সার্চ করে তিনি নিজের যুক্তি ও পদ্ধতি যে ঠিক তার প্রমান পান।

আরও পড়ুন: গলছে বরফ! কিছুদিনের মধ্যেই তলিয়ে যাবে মুম্বাই ও চেন্নাই শহর

এরপর অফিস থেকে অবসর নিয়ে গবেষণার কাজে মন দেন তিনি। পেপার লিখতে শুরু করেন দুটি বিষয়ের উপর, ১ সিন্ধুলিপির স্ট্রাকচার, ২, সিন্ধুলিপির বাক্য বা বাক্যাংশগুলির অর্থ কী বা কী ধরনের তা বোঝানো।

প্রথম গবেষণাপত্রটি ইতিমধ্যে প্রকাশও পেয়েছে। অফিস থেকে অবসর নেওয়ার ১০ মাসের মধ্যেই গবেষণার প্রায় সিংহভাগ কাজ তিনি হাতের মুঠোয় নিয়ে ফেলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক অমর্ত্য মুখোপাধ্যায় তাঁকে সাহায্যও করেছিলেন। একমাত্র ছেলে এবং সংসার সামলে তিনি গবেষণার কাজের জন্য অনেক বইও কিনে ফেলেছেন।

#newsrplus #biswasobiswas

ইতিহাসের নানান রহস্য রোমাঞ্চ নিয়ে তৈরি বিশেষ সেগমেন্ট "বিশ্বাস অবিশ্বাস" দেখুন আজ রাত ১০ টায় শুধুমাত্র "Rplus" এ।R Plus News,R Plus News,

Posted by RPLUS News on Saturday, July 13, 2019

সিন্ধুলিপিকে প্রধানত শব্দচিত্রের মাধ্যমে লিখিত একটি লিপি বলে মনে করেন বহতা। তাঁর গবেষণাপত্রে এই দাবির সপক্ষে প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তবে এভাবেই যে সিন্ধুলিপি পাঠোধাদ্ধার করা যাবে এমন দাবি তিনি করেননি। তাঁর কথায় পাঠোদ্ধার করতে গেলে অনেকগুলো বিষয় এখনও জানার প্রয়োজন আছে।