Date : 2019-11-19

#মহাবিদ্যা: দেবী তারার কৃপায় হলাহলের জ্বালা মুক্ত হয়েছিলেন মহাদেব

ওয়েব ডেস্ক: দেবী পুরাণে যে আদি শক্তির প্রকাশের বর্ণনা পাওয়া যায় সেই পরাশক্তি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরকে পরীক্ষা করেন গলিত শবদেহ রূপে জলে ভাসমান হয়ে। এই ভীষণ পরীক্ষায় জয়লাভ করেন মহেশ্বর। অর্ধাঙ্গিনী রূপে শঙ্করকে বরণ করে নিতে ব্রহ্মার মানস পুত্র প্রজাপতি দক্ষের কন্যা সতী রূপে জন্ম গ্রহণ করেন সেই আদি শক্তি। সত্য, রজঃ ও তম গুনের মধ্যে তিনি তম গুন নিয়ে মনুষ্য যোনিতে জন্ম লাভ করেন। শিবের বনিতা সতী রূপে আদ্যা শক্তি নিজের আত্ম পরিচয় মহেশ্বরকে স্মরণ করানোর জন্য দশমহাবিদ্যা রূপে প্রকাশিত হন। দক্ষের দর্প চূর্ণ করতে তিনি শিববিহীন যজ্ঞ ধ্বংস করেন ও যজ্ঞস্থলে দেহত্যাগ করেন। এই দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় বিদ্যা হলেন দেবী তারা।

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, তারা হলেন বৃহস্পতি গ্রহের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

তাঁর বামহাতে সুরাপাত্র ও নীলপদ্ম, ডান হাতে খর্গ ও কাঁচি। দেবী পিঙ্গলা, লম্বোদরা, ব্যঘ্র চর্ম পরিহিতা, জটাধারী। তাঁর কন্ঠে করোটি মালা, তিনি শবের উপর অধিষ্ঠিতা।

দেবী তারারব আবার ৮টি রূপের বর্ণনা দেওয়া আছে।

যথা, উগ্রতারা, নীল তারা, সিতাতারা, বশ্যতারা, ষড়ভূজ সিতাতারা, মহামায়া বিজয়বাহিনী তারা, কুরুকুল্লা তারা, খদি বাহিনী তারা

আরও পড়ুন : #মহাবিদ্যা: দেবী কালিকার ৫০ টি মুণ্ড স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের প্রতীক

তন্ত্রমতে বীরাচারে মঞ্চ ‘ম’কার (মদ্য, মাংস, মৎস, মুদ্রা ও মৈথুন) দ্বারা বীরাচারে বা বামাচারে বন্দনা করা হয় এই দেবীর। শাক্ত সাধনায় ভোগ ও ত্যাগের সাধনা হল বামাচারী তন্ত্রসাধনা।

দেবী তারার উৎপত্তি কাহিনীর সঙ্গে জড়িত আছে সমুদ্র মন্থনের কাহিনী। সমুদ্র মন্থনে উত্থিত হলাহল বিষ পান করে যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিলেন না মহাদেব। জাগতিক কোন বস্তুই তাঁর বিষের জ্বালা নিবারণ করতে পারেনি। দেবী মহামায়া তারা রূপ ধারণ করে মহাদেবকে শিশুজ্ঞানে স্তন পান করান। অমৃত সম মাতৃস্তন পান করে বিষের জ্বালা মুক্ত হন মহেশ্বর।