Date : 2019-11-19

জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে ‘অর্থমনর্থম’! সাতদিন পর গ্রেফতার খুনি….

মুর্শিদাবাদ: শিক্ষক পরিবার খুনের সাত দিন কেটে যাওয়ার পর অবশেষে খুনের কিনারা করল পুলিশ। একটি বিমা কোম্পানির প্রিমিয়ামের ২৪ হাজার টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করেই খুন হন জিয়াগঞ্জের শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল। সাতদিন ধরে তল্লাশি চালানোর পর বন্ধুপ্রকাশ পালের পৈত্রিক ভিটে সাগরদিঘির বাড়ি থেকে ঘটনায় অভিযুক্ত পেশায় রাজমিস্ত্রি উৎপল বেহরা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পেশায় রাজমিস্ত্রি বছর ২০ এর উৎপল পুলিশি জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। পুলিশ সূত্রের খবর, নিহত বন্ধুপ্রকাশ পাল শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিমা কোম্পানির এজেন্সির কাজ করতেন। তাঁর কাছেই অভিযুক্ত উৎপল পলিসি করিয়েছিলেন।

প্রথম বছর সময় মতো বিনার প্রিমিয়ামের টাকা ও রসিদ উৎপলকে দিলেও পরের বছর ২৪ হাজার টাকা প্রিমিয়ামের কোন রসিদ দিতে চাননি বন্ধুপ্রকাশ পাল। এই নিয়েই দুজনের মধ্যে বচসা চলতে থাকে। রসিদ না পাওয়ায় উৎপল মনে করতেন প্রিমিয়ামের টাকা জমা দেননি বন্ধুপ্রকাশ। সন্দেহের বসে বন্ধুপ্রকাশের থেকে টাকা ফেরৎ পাওয়া জন্য বার বার চাপ দিতে থাকেন উৎপল বেহরা। এই ঘটনার ফলে বন্ধুপ্রকাশের উপর চাপা আক্রোশ তৈরি হয় উৎপল বেহরার। এরপরেই দশমীর দিন রাতে বাড়িতে বন্ধুপ্রকাশ ও তাঁর স্ত্রী, পুত্রকে খুন করে উৎপল বেহরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়, বন্ধুপ্রকাশ বাবু আরএসএস কর্মী হওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : জিয়াগঞ্জে নিহত শিক্ষকের বাবা ও বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ

কিন্তু এই তত্ত্ব প্রথম থেকেই খারিজ করে দেওয়া হয় মুর্শিদাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে। আর্থিক লেনদেনের কারণেই যে শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের মৃত্যু হেয়েছে এই ঘটনার কথা অনুমান করেই পুলিশ প্রথম তাঁর বন্ধু সৌভিক বনিককে গ্রেফতার করে। ঘটনার সত্যতা জানতে আটক করা হয়েছিল বন্ধুপ্রকাশের বাবা অমর পালকেও। এরপরেই উঠে আসে উৎপল বেহরার নাম। উৎপল বেহরাকে গ্রেফতার করার পর পুলিশি জেরায় ঘটনা বিস্তারিত ভাবে উঠে আসে। তবে খুনের সময় ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জরিত ছিল কিনা তা নিয়ে এখনও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।