Date : 2019-11-19

৭৩ কোটি টাকার ভূ-গর্ভস্থ জল চুরি, ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর…..

ওয়েব ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই গোটা দেশ জুড়ে তীব্র জলাভাব দেখা দিয়েছিল। মৌসুমী বায়ুর খামখেয়ালিপনায় অনাবৃষ্টি ভূগর্ভস্থ জলের ভাঁড়ার শূন্য করে দেয়। মহারাষ্ট্র, চেন্নাই প্রভৃতি অঞ্চলে পানীয় জলের সঙ্কট চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। এরমধ্যে প্রায় ৭৩ কোটি টাকার জল চুরির অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দক্ষিণ মুম্বই আজাদ নগর থানার পুলিশ। সূত্রের খবর এই ঘটনা সত্যিই বিরল। কালবাদেবী এলাকায় বোমানজি মাস্টার লেনের পাণ্ড্য ম্যানসনে বেআইনি ভাবে দুটি কূপ খনন করে জল চুরি করছিল এই ৬ জন। ১১ বছর ধরে পাণ্ড্য ম্যানসনের মালিক ত্রিপুরা তার দুই সহযোগী প্রকাশ ও মনোজ পাণ্ড্য এবং তিনজন ওয়াটার ট্যাঙ্কার অপারেটর অরুণ মিশ্র, শ্রবণ ও ধিরাজ মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পাণ্ড্য ম্যানসনের দুটি কুয়োকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকার জল বিক্রি করেছে। ট্যাঙ্ক প্রতি ১২০০ টাকা দরে ১১ বছর ধরে ৬.১ লক্ষ জলভর্তি ট্যাঙ্ক বেচেছে তারা। প্রতি ট্যাঙ্কারে ১০ হাজার লিটার জল ধরে। সব মিলিয়ে ৭৩ কোটি ১৯ লক্ষ টাকার জল চুরি হয়েছে। এই কুয়ো মুখদুটি অবিলম্বে বুজিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৯৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা করে পুলিশ।

আরও পড়ুন ; দেশদ্রোহিতার তকমা নিয়ে ১০ দিনের জন্য জেল খেটেছিলেন নোবেল জয়ী অভিজিৎ!

আগের বছরই মাদ্রাজ হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল বেআইনি ভাবে ভূগর্ভস্থ জল চুরি করলে চরম শাস্তি দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট, ২০২০ সালের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার। তার জের ভুগবে ভারতের ২১ টি শহর। এরফলে চরম বিপদের মুখে পড়তে চলেছে কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাই সহ বেশ কয়েকটি বড় শহর। ২০৩০ সালের মধ্যে তীব্র জলভাবে ভুগবেন দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।