Date : 2020-02-22

‘জীবন্ত কংক্রিট’ করতে পারে সালোকসংশ্লেষ! অভিনব আবিষ্কার বিজ্ঞানীর

ওয়েব ডেস্ক: উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজেই প্রস্তুত করে। উদ্ভিদের প্রাণ আছে বলেই শরীরে খাদ্যের চাহিদাও তৈরি হয়। কিন্তু জড় পদার্থের শরীরেও সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে খাদ্য প্রস্তুত হওয়া সম্ভব তা করে দেখাল কলোরাডো ইউনিভর্সিটির ইঞ্জিনিয়ার উইল স্রাবার। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমাণ করে গিয়েছিলেন গাছের প্রাণ আছে। ইঞ্জিনিয়র উইল স্রাবার প্রমান করলেন কংক্রিটও সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতির মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে নিজের শরীরে। তাঁর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তৈরি করেছেন ‘জৈব কংক্রিট’।

মার্কিন এই গবেষকের কাজ স্বাভাবিক ভাবেই সংবাদ শীর্ষে উঠে এসেছে। কংক্রিটের নাম দিয়েছেন উইল কংক্রিট। এর উপকরনের সঙ্গে যোগ করেছেন একটি বিশেষ ব্যাক্টেরিয়া, নাম কায়নোব্যক্টেরিয়া। এই ব্যাক্টেরিয়াটি ক্যালশিয়াম কার্বোনেট তৈরি করতে পারে। পরিষ্কার বালির সঙ্গে ক্যালশিয়াম কার্বোনেট মিশিয়ে তৈরি হবে কংক্রিট।

মানবিকতার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হাতছাড়া! বৃদ্ধকে বাঁচাতে পরীক্ষা দেওয়া হল না

সেই কংক্রিটে মেশানো হবে এই ব্যক্টেটিয়া। বাতাসের সংস্পর্শে এসে সেই ব্যাক্টেরিয়া সালোকসংশ্লেষ ঘটাবে। এই কংক্রিটের সঙ্গে জিলোটিন যোগ করলে তা আরও মজবুত হবে বলে জানিয়েছেন উইলিয়াম। কংক্রিটের রঙ সবুজ হবে।

আর্দ্রতার সঙ্গে সঙ্গে কংক্রিটের রঙ আরও ফুটে উঠবে। তবে কংক্রিট তেমন মজবুত না হলেও পরিবেশ বান্ধব। তবে ছোট খাটো ইমারত তৈরির ক্ষেত্রে এমন জীবন্ত কংক্রিট ব্যবহার করতে পারেন তবে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমবে। হয়তো এই মাইক্রোবের সালোকসংশ্লেষের ফলে খুব বেশি কার্বন-ডাই অক্সাইড কমবে না। কিন্তু যদি ব্যাপকভাবে ব্যবহার বাড়াতে পারি, তাহলে এই ছোটো ছোটো উদ্যোগগুলোও অনেকটা কাজে আসতে পারে পরিবেশের। গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কারণে পরিবেশ দূষণের চরম পর্যায় পৌঁছে গেছে বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশ। এই পরিস্থিতিতে এমন অভিনব ধারনা সেই ভার অনেকটাই লাঘব করবে।