Date : 2020-09-25

মানবিকতার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হাতছাড়া! বৃদ্ধকে বাঁচাতে পরীক্ষা দেওয়া হল না

পূর্ব মেদিনীপুর: কলেজ সার্ভিস কমিশনে নিয়োগের পরীক্ষায় বসার জন্য সকাল সকাল গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে ছিলেন শেখ ওলিদ আলি। পথে দুর্ঘটনায় জখম বৃদ্ধকে ফেলে চলে আসতে পারেননি শেখ ওলিদ। অসহায় বৃদ্ধকে শুশ্রূষা করে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। দেরি করে আসায় পরীক্ষায় বসতেই পারলেন না কাঁথির শ্রীরামপুরের বাসিন্দা শেখ ওলিদ আলি। প্রাণীবিদ্যায় স্নাতকোত্তর শেষ করে অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস্‌ ইসলামিক অর্গানাইজেশনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাপতি এই যুবক সাত বছর ধরে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার আল আমিন মিশন কলেজে অতিথি শিক্ষক। পূর্ণ সময়ের জন্য অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রবিবার কাকভোরে রবিবার বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিলেন ওলিদ।

শ্যুটআউটকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ

পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল পাঁশকুড়া বনমালি কলেজ।৪১ নম্বর জাতীয় সড়কের আন্ডারপাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখেন মোটরবাইকে ধাক্কায় এক বৃদ্ধ রাস্তায় পড়ে যান। আহত বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারেননি ওলিদ। ১০০ ডায়াল করেও পুলিশের সাড়া না মেলায় নিজেই বৃদ্ধকে নার্সিংহোমে নিয়ে যান। ওই বৃদ্ধর থেকে মোহবাইল নম্বর জোগাড় করে তার পরিজনদের খবর দেন ওলিদ। ঘড়িতে তখন ৯ বেজে গিয়েছে। সাড়ে ৯ টার আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো সম্ভব নয় ছিল না ওলিদের পক্ষে। ওলিদ জানালেন, দেরি হওয়ায় তাঁকে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

রাত থেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বাঘ! আতঙ্কে কোন্নগরবাসী

মোবাইল ক্যামেরায় তোলা বৃদ্ধের ছবি দেখিয়ে ওলিদ বোঝানোর চেষ্টা করেন, কেন তাঁর দেরি হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছলেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাননি। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবী, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ১০ মিনিট দেরি করলেই পরীক্ষার্থীকে আর পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যায় না। তবে ওদিলের কথায়ও বেশ খিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে? ওলিদের ছবি কে তুলল এবং ওলিদের কমিউনিটির তরফে ছবিটি কেন শেয়ার করা হল? এই প্রসঙ্গে ওলিদ জানিয়েছেন, হাসপাতালে ঢোকার মুহুর্তে এক ব্যক্তি তার ছবি তোলে। পরীক্ষা দিতে দেরি হয়ে যাচ্ছে দেখে ওলিদ ওই ব্যক্তির থেকে ছবিটি চেয়ে নেন মোবাইলে। পরে সেই ছবিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে দেখালেও তারা তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি। পরীক্ষা দিতে না-পারায় ওলিদের আক্ষেপ নেই। আহত বৃদ্ধ শেখ নুরজামানকে দেখতে সোমবার তিনি কাঁথির মুকুন্দপুরেও গিয়েছিলেন। গিয়ে জেনেছেন, রবিবার নাতির ওষুধ কিনতে মেচেদায় গিয়েছিলেন নুরজামান। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।