Date : 2020-09-25

‘লাভ জিহাদে’র টার্গেট ভিন ধর্মের তরুণীরা, জানাল চার্চ

ওয়েব ডেস্ক: কেরলে ‘লাভ জিহাদ’ কোনও গালগল্প নয়। বাস্তবিক প্রেমের নামে কমবয়সী খ্রিস্টান মেয়েদের ফুসলে নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। তার পর তাদের অনেককে বিদেশে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন ক্রীতদাসী হিসাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে খুনের ঘটনাও ঘটছে।

এই বিবৃতি দিয়েছেন কেরলের রোমান ক্যাথলিক চার্চের পাদ্রিরা। তাঁরা এই ‘লাভ জিহাদ’ প্রতিহত করতে সব ধর্ম সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে রবিবারের প্রার্থনার পর সানডে স্কুলে এ ব্যাপারে খ্রিস্টান তরুণ-তরুণীদের সচেতন করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। ‘লাভ জিহাদ’-কে এক ‘বিপদ’ বলেই গণ্য করছে চার্চ।

ভ্যানিলা-চকলেটে ঢেকেছে রাস্তা, স্বাদে মুগ্ধ ত্রিশূরবাসী

সম্প্রতি কেরলে সাইরো-মালাবার চার্চ বা মালাবারের সিরিয়ান ক্যাথলিক চার্চের পাদ্রি ও অনুগতদের সমাবেশ ছিল। এই সমাবেশকে সাইনড বলা হয়। মালাবার সিরিয়ান চার্চের এটা ছিল ২৮তম সাইনড। সেখানেই এই ‘লাভ জিহাদে’র ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাদ্রিরা তাঁদের বিবৃতিতে বলেন, ‘লাভ জিহাদে’র নামে কেরলের খ্রিস্টান মেয়েদের টার্গেট করা হচ্ছে এবং হত্যা করা হচ্ছে। অনেককে ইসলামে ধর্মান্তরিত করে বিদেশে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তারা কোনও সদজীবন যাপনের সুযোগ পাচ্ছে না। যৌন ক্রীতদাসীদের মতো তাদের সঙ্গে অকথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। কাউকে একাধিক পুরুষের সঙ্গে শুতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে একেবারে যৌনদাসী হিসাবে খাটানো হচ্ছে।

মায়ের জন্মদিনে বকুনি খেলেন দেব, কেন জানেন?

এই বিবৃতি দিয়েছেন সাইরো-মালাবার চার্চের প্রচার কমিশন সেক্রেটারি ফাদার অ্যান্টনি থালাচাল্লুর। তিনি বলেছেন, এখনও পর্যন্ত কেরল থেকে ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়ায় যোগদানের জন্য আরবে যে ২১ জন গিয়েছে তাদের মধ্যে অর্ধেকই খ্রিস্টান তরুণ-তরুণী। ধর্মান্তরিত করে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফাদার একাধিক সাম্প্রতিক ঘটনার কথা তুলে ধরেন। কোঝিকোডে ১৯ বছরের একটি খ্রিস্টান মেয়ের শ্লীলতাহানি করে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে তাকে ধর্মান্তরিত করা হয়। এছাড়া, ‘লাভ জিহাদে’ আর এক টিন-এজারকে ফাঁসানোর পর সে রুখে দাঁড়ালে তাকে ছোরা মেরে খুন করা হয়। তার পর থেকেই প্রেমের ফাঁদে ফেলে আইএসআইএসে ভেড়ানোর একের পর এক উদ্বেগজনক ঘটনার কথা চার্চ জানতে পারে। সে কারণেই তারা সরাসরি ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হতাশার সঙ্গে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয় না। তাই আপাতত চার্চের সানডে স্কুলেই এ ব্যাপারে কমবয়সীদের সচেতন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।