Date : 2020-09-26

তীব্র ঠান্ডা মায়ের কোলেই মৃত্যু হল দুধের শিশুর, শাহিনবাগের আন্দোলনে মর্মান্তিক দৃশ্য

ওয়েব ডেস্ক: ডিসেম্বর মাস থেকেই হাড় কাঁপানো শীত রেকর্ড ভেঙেছে দিল্লিতে। এরমধ্যেই সেখানে চলছে সিএএ বিরোধী আন্দোলন। নাওয়া-খাওয়া ভুলে অধিকারের লড়াই জারি রাখতে দিন রাত শাহিনবাগে চলছে মহিলাদের আন্দোলন। এদের মধ্যে কেউ বৃদ্ধ, কেউ গৃহবধু, কেউবা নিজের কোলের সন্তানটিকেই সঙ্গে নিয়েই বসেছেন আন্দোলনে। চারমাসের মহম্মদ জাহানকে কোলে নিয়েই মা নাজিয়া সামিল হয়েছিলেন আন্দোলনে। গত সপ্তাহে তীব্র ঠান্ডায় বুকে সর্দি লেগে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় একরত্তি মহম্মদ জাহানের। এরপর সেখানেই ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হয় চারমাসের শিশুটির। সন্তান হারিয়ে নাজিয়া ও তার স্বামী আরিফ অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলন থেকে কিছুতেই পিছু হটবেন না তারা।

একটি সন্তানকে হারিয়ে তারা শোকার্ত তবে বাকি দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ-এর কথা চিন্তা করে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে এই আন্দোলন তারা চালিয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, সিএএ এবং নাগরিকত্ত্ব আইন নিয়ে ৫০ দিন ধরে দিল্লির শাহিনবাগে চলছে মহিলাদের আন্দোলন। সেখানেই নাজিয়া তার সন্তান ছোট্ট জাহানকে নিয়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। ছোট্ট জাহানকে সামলানোর জন্য সকাল থেকে পালা করে দায়িত্ব নিতেন আন্দোলনরত মহিলারা। কেউ তাকে খাওয়াত, কেউ স্নান করিয়ে দিত, কেউবা খেলার ছলে সময় কাটাত তার সঙ্গে।

জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পর শাহিনবাগে বিক্ষোভকারীদের উপর চলল গুলি

একজন নয় আন্দোলনরত হাজার মহিলার মাতৃস্নেহের মধ্যেই সারাদিন থাকত মহম্মদ জাহান। কিন্তু দিল্লির তীব্র ঠান্ডা সহ্য করতে পারেনি মহম্মদ জাহান। শিশুকে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নীচে রেখে দেওয়া যে কতটা ভয়ঙ্কর তা বুঝে উঠতে অনেকটা সময় চলে গিয়েছিল জাহানের মা-বাবার। আর সেই পরিনতিতে অকালে ফুটফুটে শিশুর প্রাণ ঝরে গেল। নাজিয়ার কথায়, ‘‘গত ৩০ জানুয়ারি, আন্দোলন মঞ্চ থেকে বাড়ি ফিরি আমরা। রাত তখন একটা বাজে। আমার পাঁচ বছরের মেয়ে আর এক বছরের ছেলের পর, সবচেয়ে ছোট জাহানকেও ঘুম পাড়িয়ে দিই।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! শাড়ি পরে সরস্বতী পুজোর অঞ্জলি দিতে গিয়ে পুড়ে মৃত্যু খুদের

তার পর নিজে শুতে চলে যাই। পরদিন সকালে উঠে দেখি, জাহানের শরীরে কোনও স্পন্দন নেই। নড়ছে-চড়ছে না। সঙ্গে সঙ্গে কোলে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলাম। ডাক্তার দেখে বললেন, অনেক আগেই মারা গিয়েছে ও। আমাদের জাহান, ঘুমের মধ্যেই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।’’ সন্তানকে হারানোর পরেও শাহিনবাগের আন্দোলন মঞ্চে নিত্যদিন উপস্থিত থাকছেন নাজিয়া ও তার স্বামী আরিফ। আন্দোলন মঞ্চে বসেই জরির এম্ব্রোডায়রির কাজ করেন নাজিয়া। আরিফ রিক্সা চালায়। আরিফের কথায়, সরকার যদি সিএএ, এনআরসি আইন না আনত তবে আমাদের এই আন্দোলন হতো না আর ছেলেটারও অকাল মৃত্যু হতো না।