Date : 2024-06-24

সন্দেশখালি এফেক্ট! বসিরহাটের পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বুথ‌ই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ডায়মন্ডে মাত্র দশ শতাংশ

সন্দেশখালি নিয়ে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে চলেছে। এমনকি এই ভোট বাজারের প্রচারেও জাতীয় রাজনীতিতে বারবার করে এসেছে সন্দেশখালির নারী নির্যাতনের কথা। সেই সন্দেশখালি যে লোকসভার অধীন সেই বসিরহাটে এবার পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বুথকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন

সঞ্জু সুর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ প্রথম সন্দেশখালিতে মহিলা নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকে এই পাঁচ মাসে একটা দিনও এমন যায় নি যেদিন রাজ্য রাজনীতি সন্দেশখালি নিয়ে সরগরম হয়নি। একদিকে বিরোধীরা যখন রাজ্যের শাসকদলকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে আক্রমণ শানিয়েছে, তেমনি শাসক দল‌ও তাদের মতো করে সেই আক্রমণ প্রতিহত করে গেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আগামি কাল অর্থাৎ শনিবার সেখানে ভোট। ফলে নির্বাচন কমিশন‌ও এখানে শান্তিপূর্ণ ভোট করার বিষয়ে বিশেষভাবে সচেষ্ট। তাই বসিরহাট লোকসভার জন্য যেমন নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয়েছে, তেমনি পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বুথকে স্পর্শকাতর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।‌

শেষ দফার নির্বাচনে রাজ্যের মোট ন’টি আসনের মোট ১৭,৪৭০ টি বুথের মধ্যে ৩,৭৪৮ টি বুথ কে ক্রিটিক্যাল বা সংবেদনশীল বুথের তকমা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে শুধু বসিরহাট লোকসভার মোট ১,৮৮২ টি বুথের মধ্যে ১,০৯৬ টি বুথ কে ঝুঁকিপূর্ণ বুথ হিসাবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।‌ অর্থাৎ মোট বুথের ৫৮ শতাংশ বুথ‌ই স্পর্শকাতর বা ক্রিটিক্যাল। আবার যে ডায়মন্ড হারবার নিয়ে তৃণমূল বিরোধী প্রতিটি রাজনৈতিক দল‌ই ভুরিভুরি অভিযোগ জানিয়েছে কমিশনের দফতরে সেই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের মাত্র দশ শতাংশ বুথ এবার কমিশনের মতে ঝুঁকিপূর্ণ। এই কেন্দ্রের মোট ১,৯৬১ টি বুথের মধ্যে মাত্র ১৯৮ টি বুথ ঝুঁকিপূর্ণ। এই দফায় সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ বা সংবেদনশীল বুথ রয়েছে কলকাতা উত্তর কেন্দ্রে। মোট ১,৮৬৯ টি বুথের মধ্যে মাত্র ৬৬ টি বুথ ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া দমদমের ১,৭৯২ টি বুথের মধ্যে ৫৭২ টি, বারাসতের ১,৯৯১ টির মধ্যে ২৭০ টি, জয়নগরের ১,৮৭৯ টির মধ্যে ৬৮৬ টি, মথুরাপুর কেন্দ্রের ১,৮৯৮ টির মধ্যে ৪২০ টি, যাদবপুরের ২,১২০ টির মধ্যে ৩২৩ টি ও কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের মোট ২,০৭৮ টি বুথের মধ্যে কমিশন ১১৭ টি বুথ কে ক্রিটিক্যাল বা ঝুঁকিপূর্ণ বুথ হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

আরও পড়ুন : শেষ দফার ভোটে কমিশনের বিশেষ নজরে কলকাতা