এবার মমতার ঘর ভাঙলেন অধীর !

কংগ্রেসের দাবি, তৃণমূল ছেড়ে প্রায় সাড়ে চারশো নেতা-কর্মী ও সমর্থক হাত শিবিরে যোগ দেন।

শ্যাম বিশ্বাস ও বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের ঠিক আগে তৃণমূল শিবিরে আবারও কি ধাক্কা? একের পর পর ধাক্কা সইতে হচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমোকে। একদিকে বসিরহাট, অন্যদিকে ভাঙড়। এই দুটো জায়গাতেই বাংলার চলতি প্রবাদ যেন মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছে। কথাতেই আছে কারোর পৌষ মাস তো কারোর সর্বনাশ। এই দুটো জায়গায় উঠে আসছে সেই ছবি। এখানে কারোর মুখে ফুটে উঠছে হাসি। আবার কারোর মুখে উঠে আসছে হাসি। কারোর মুখে হয়ে যাচ্ছে বাংলার পাঁচের মতো। কার্যত এই রাজনৈতিক শিবিরে ধরা পড়ছে ভাঙনের স্পষ্ট ছবি। দুই ঘটনাকে সামনে রেখেই নতুন করে শুরু রাজনৈতিক চর্চা।

২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। সেই কর্মসূচির আগে বিরোধীরা যখন তৃণমূলকে চাপে ফেলার কৌশল নিচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে সামনে এল বড়সড় যোগদানের ছবি। বসিরহাটে টাউন হল মাঠে কংগ্রেসের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সেখানেই কংগ্রেসের দাবি, তৃণমূল ছেড়ে প্রায় সাড়ে চারশ নেতা-কর্মী ও সমর্থক হাত শিবিরে যোগ দেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। কংগ্রেসের দাবি, বসিরহাটের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অসিত মজুমদারের যোগদান সংগঠনের জন্য বড় বার্তা।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দাবি, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষ বিকল্প শক্তির খোঁজ করছেন। আর সেই কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন বহু কর্মী-সমর্থক।
এতো গেল বসিরহাটের ছবি। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর জেলা কংগ্রেস কার্যালয়েও দেখা গেল একই ছবি। জেলা কংগ্রেসের দাবি, ভাঙড় এলাকা থেকে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। জেলা সভাপতি তপন মণ্ডলের হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করেন নবাগতরা। উপস্থিত ছিলেন জেলার একাধিক কংগ্রেস নেতা।
দুই জেলার এই যোগদানকে সামনে রেখে কংগ্রেসের দাবি, তৃণমূলের সংগঠনের ভিত নড়তে শুরু করেছে। ২১ জুলাইয়ের আগে এই ভাঙন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেও দাবি হাত শিবিরের। তবে এই দাবিকে এখনও স্বীকার করেনি তৃণমূল। শাসকদলের তরফে এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, যোগদানের সংখ্যাকে ঘিরে দুই পক্ষের দাবি-পাল্টা দাবি চলতেই পারে। তবে ২১ জুলাইয়ের আগে বিরোধীদের এই প্রচার যে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তৃণমূল কতটা শক্তি প্রদর্শন করতে পারে, আর তার আগে বিরোধীদের এই যোগদান রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।