দার্জিলিং যাওয়ার পথে কিশানগঞ্জে উদ্ধার মল্লিকপুরের তিন নাবালক, স্বস্তিতে পরিবার।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: বাবা-মাকে কিছু না জানিয়েই দার্জিলিং ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা। সেই উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে লাগেজ নিয়ে ট্রেনে চেপে বসেছিল মল্লিকপুরের তিন নাবালক। বয়স ১৫, ১৩ এবং ১১ বছর। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই বিহারের কিশানগঞ্জ স্টেশনে তাদের আটক করে নিরাপদে উদ্ধার করে রেল পুলিশ। পরে বারুইপুর থানার পুলিশ গিয়ে তিন নাবালককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে। ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে তিন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর থানার অন্তর্গত মল্লিকপুর মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই তিন নাবালক একই স্কুলের পড়ুয়া। তারা মল্লিকপুর আবদার শুক্কুর হাইস্কুলে পড়াশোনা করে। তিনজনের মধ্যে একজন নবম শ্রেণিতে, একজন সপ্তম শ্রেণিতে এবং অপরজন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।
পরিবারের দাবি, ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার বিকেলে তিন নাবালক কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে লাগেজ নিয়ে বেরিয়ে যায়। তাদের পরিকল্পনা ছিল দার্জিলিং ঘুরতে যাওয়ার। প্রথমে তারা মল্লিকপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠে। এরপর শিয়ালদহ থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার টিকিট রেলের কাউন্টার থেকে কাটে বলে জানা গিয়েছে। পরে তারা দার্জিলিং মেলের ট্রেনে ওঠে।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও তিন নাবালক বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোনও খোঁজ না মেলায় পরদিন, বুধবার, বারুইপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা।
নাবালকদের খোঁজে দ্রুত তৎপর হয় বারুইপুর থানার পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে এসআই শংকর অধিকারীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। ওই দল বিভিন্ন থানার পাশাপাশি রেলওয়ে জিআরপি এবং আরপিএফের সঙ্গেও যোগাযোগ করে। তিন নাবালকের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য বিভিন্ন রেল পুলিশ এবং নিরাপত্তা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়।
পুলিশের তৎপরতার মধ্যেই আসে সুখবর। বিহারের কিশানগঞ্জ স্টেশনে কর্তব্যরত আরপিএফের নজরে পড়ে ওই তিন নাবালক। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পরিচয় যাচাই করে বারুইপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়েই বারুইপুর থানার পুলিশ দ্রুত কিশানগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
কিশানগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছে পুলিশ তিন নাবালককে নিরাপদে উদ্ধার করে। এরপর তাদের বারুইপুর থানায় ফিরিয়ে আনা হয়। নাবালকদের ফিরে পাওয়ার খবর পরিবারের কাছে পৌঁছতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বাবা-মায়েরা। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে।
এক নাবালকের বাবা এমডি মাহতাব ওস্তাদ জানান, মঙ্গলবার বিকেলের পরিবর্তে ৬ জুলাই সোমবার বিকেলে তিন ছেলে কাউকে কিছু না জানিয়েই লাগেজ নিয়ে দার্জিলিং যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে থানায় অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ যেভাবে তৎপর হয়ে তিন নাবালককে খুঁজে বের করেছে, তার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
উদ্ধার হওয়া তিন নাবালককে পরবর্তী আইনি ও সুরক্ষামূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বারুইপুর থানার পক্ষ থেকে ফুলতলায় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং রেল পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গিয়েছে। নাবালকদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তিতে পরিবার। একই সঙ্গে এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের বাইরে যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকা জরুরি।