প্রায় ৪০ বিঘা এলাকা জলমগ্ন পুরনো বাঁধ উপচে রাতের জোয়ারে ঢুকল নদীর জল, নিরাপদ আশ্রয়ে বাসিন্দারা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : সমুদ্রের করাল গ্রাস ও জলোচ্ছ্বাসে ফের জলমগ্ন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গোবর্ধনপুর এলাকা। রাতের জোয়ারে পুরনো নদীবাঁধ উপচে প্রায় ৪০ বিঘা এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে আগাম সতর্কতার কারণে এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দাকে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কোটালের পর থেকেই গোবর্ধনপুরের এই অংশে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দু-একটি পরিবার অবশ্য এলাকায় থেকে গিয়েছিল। রাতের জলোচ্ছ্বাসে পুরনো বাঁধ উপচে নদীর জল এলাকায় ঢুকতে শুরু করলে ওই পরিবারগুলিও রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। সকালে দেখা যায়, জলমগ্ন বাড়িগুলিতে পড়ে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বাসিন্দারা। নৌকা নিয়ে বাড়ির ভিতর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে আনার চেষ্টা করছেন তাঁরা। একমাত্র আশ্রয়স্থলটুকু হারানোর পাশাপাশি ঘরের স্মৃতি ও সামগ্রী যাতে নষ্ট না হয়, সেই চেষ্টাই এখন তাঁদের কাছে প্রধান হয়ে উঠেছে।
বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা গোবর্ধনপুরের নদীবাঁধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। এর আগে সুন্দরবন বিষয়ক উন্নয়নমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা এলাকা পরিদর্শন করে স্থায়ী ও পাকাপোক্ত নদীবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে যে পুরনো বাঁধ উপচে এবার জল ঢুকেছে, তার প্রায় ৫০০ মিটার দূরেই তৈরি হয়েছে মূল রিং বাঁধ। এখনও পর্যন্ত মূল বসতিপূর্ণ এলাকায় নদীর জল ঢোকেনি। তবে রিং বাঁধের কিনার পর্যন্ত জল এসে পৌঁছেছে। ফলে দুপুরের জোয়ারে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এলাকার বাসিন্দারা নদীবাঁধের কাছে জড়ো হতে শুরু করেছেন। তাঁদের চোখ এখন মূল রিং বাঁধের দিকে। জোয়ারের জল কতটা উপরে ওঠে এবং বাঁধ সেই চাপ সামলাতে পারে কি না, সেই প্রশ্নই এখন গোবর্ধনপুরবাসীর সামনে।