থানার সামনে টেবিল পেতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল শওকত মোল্লাকে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বিস্ফোরণকাণ্ডের মামলায় এনআইএ হেফাজতে থাকা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা-র বিরুদ্ধে এবার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। সেই মামলায় শওকতকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল বারুইপুর মহকুমা আদালত। সোমবার রাতে তাকে নিয়ে আসা হয় ভাঙড় থানায়। মঙ্গলবার চলে জিজ্ঞাসাবাদ। ভাঙড়ে আনার পর মঙ্গলবার ভাঙড় থানার বাইরে টেবিল-চেয়ার পেতে শওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ভাঙড় থানার পুলিশ আধিকারিকরা। সাংবাদিক বা বাইরের কেউ যাতে ছবি তুলতে না পারেন, তার জন্য রাস্তার দিকে গাড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। শওকতকে দেখার জন্য স্থানীয় মানুষজনের ভিড়ও হয় থানার সামনে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বোদরা বাজারের বাসিন্দা শেখ খুরশিদ আলম-এর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ জুলাই বোদরা থানায় মামলা রুজু হয়। এফআইআরে শওকত মোল্লা-সহ মোট ১৭ জনের নাম রয়েছে।
অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল রাতে অভিযুক্তরা বেআইনি জমায়েত করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে খুরশিদ আলমের বাড়ি ও দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পাশাপাশি দোকানের মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। লুট হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকা বলে দাবি করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
শেখ খুরশিদ আলমের বক্তব্য, “আমার রেকর্ডভুক্ত জমিতে জোর করে দোকানঘর নির্মাণ ও জায়গা দখল করছিলেন বোদরা অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি সাদেকুল দপ্তরি ও তাঁর ‘গডফাদার’ শওকত মোল্লা। বাধা দিতেই পাল্টা লোকজন নিয়ে আমার ওপর চড়াও হন তাঁরা।” এর দু’মাস পর ১৮ জুন বোদরা বাজারে থাকা তাঁর দোকান থেকে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মালপত্র লুঠ করা হয় এবং গাড়ি দিয়ে দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শওকত মোল্লাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আর সেই তদন্তের জন্যই মঙ্গলবার তাকে ভাঙর থানা সামনে টেবিল পেতে চেয়ারে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ভাঙ্গড় ডিভিশনের ডিসি শিবপ্রসাদ পাত্র।