গঙ্গাসাগর নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক

গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও পরিবহণ ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরাতে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা :পুণ্যার্থীদের হেনস্থা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও সমস্যা মেলাতে শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। সম্প্রতি সাগর ব্লক অফিসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কচুবেড়িয়া ও গঙ্গাসাগর পয়েন্টে যাতায়াতকারী পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন আধিকারিকেরা।​এদিনের এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে, আরটিআই অফিসার, পিডব্লিউডি (PWD) ও বিএলআরও (BLRO) আধিকারিকেরা, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানা ও সাগর থানার ওসি, জয়েন্ট বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, ভারতীয় জনতা পার্টির ব্লক কনভেনার, চারটি মণ্ডলের মণ্ডল সভাপতি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ম্যাজিক, অটো ও টোটো চালকদের প্রতিনিধিরাও এই আলোচনায় অংশ নেন। ​বৈঠকে গাড়ি চালক ও মালিকদের জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: ​সমস্ত গাড়িচালক ও মালিকদের তাঁদের গাড়ির বৈধ কাগজপত্র এবং রেজিস্ট্রেশন দ্রুত সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
​অটো চালানোর ক্ষেত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনও অবস্থাতেই ৬ জনের বেশি যাত্রী বা প্যাসেঞ্জার তোলা যাবে না। ​আগামী ২০ দিনের মধ্যে চালকের ডানপাশে কোনও যাত্রী বসানো যাবে না এবং সুরক্ষার খাতিরে চালকের সেই পাশটি সঠিকভাবে ঘিরে রাখতে হবে।​পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আগামী সোমবার প্রশাসনিক আধিকারিকেরা সরাসরি কচুবেড়িয়া পয়েন্ট এবং গঙ্গাসাগর পয়েন্ট পরিদর্শনে যাবেন। এই পরিদর্শনের পর যে সমস্ত গাড়ি বা চালক নিয়ম অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।​এদিকে, আগামী ২০১৭ সালের গঙ্গাসাগর মেলা আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে ঘোষণা হতে পারে বলেন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।অন্যদিকে, পুণ্যার্থীদের হয়রানি রুখতে এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও কড়া পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষ।