মথুরাপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন ঘিরে জমজমাট নাটক।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে সম্প্রতি এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটকীয়তা প্রত্যক্ষ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজ্যের দলীয় রাজনীতি ও চিরাচরিত জোটের হিসাব-নিকাশকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়ে এখানে গড়ে উঠল এক অপ্রত্যাশিত সমীকরণ। বিজেপির এক জয়ী সদস্যের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া এবং তাতে সিপিএম ও তৃণমূলের এক অংশের ভোট প্রদান—সব মিলিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল কিছু দিন আগে, যখন মথুরাপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন তৃণমূল সভাপতি মানবেন্দ্র হালদারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। সেই অনাস্থা ভোটে ১৭-১৩ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মানবেন্দ্রবাবুকে সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এই অপসারণের পরই নতুন সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা।
পঞ্চায়েত সমিতির মোট ৩০টি আসনের দলীয় বিন্যাস বেশ আকর্ষণীয়। শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৩টি আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করলেও সেখানে সিপিএমের ৩ জন এবং বিজেপির ৪ জন সদস্য জয়ী হয়ে সমিতিতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নতুন সভাপতি নির্বাচনের দিন যে দৃশ্য দেখা গেল, তা কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকের গণনায় ছিল না।
সভাপতি পদের জন্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন বিজেপিরই দুই সদস্য—দিব্যেন্দু সর্দার এবং অন্নপূর্ণা হালদার। তৃণমূলের অন্দরের বিভাজন এই নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ তৃণমূলের সদস্যরা দুই ভিন্ন বিজেপির প্রার্থীকে সমর্থন জানান। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, দিব্যেন্দু সর্দারের পক্ষে ভোট দেন তৃণমূলের ১৪ জন সদস্য, সিপিএমের ৩ জন সদস্য এবং তিনি নিজে। ফলে মোট ১৮টি ভোট পেয়ে তিনি নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা হালদারের পক্ষে ভোট পড়ে ১২টি। তাঁর ঝুলিতে যায় তৃণমূলের বিরোধী গোষ্ঠীর ৯ জন সদস্যের ভোট এবং অন্নপূর্ণাদেবীসহ বিজেপির বাকি ৩ জন সদস্যের সমর্থন। ফলে তৃণমূল ও সিপিএমের যৌথ সমর্থনে বিজেপির এক সদস্যের কাছেই পরাজিত হতে হয় বিজেপিরই অন্য এক প্রার্থীকে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন স্থানীয় স্তরের উপদলীয় কোন্দল এবং কৌশলগত আঁতাতের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দলীয় প্রতীকের ঊর্ধ্ব উঠে তৃণমূলের দুই ভিন্ন শিবিরের দুই বিজেপি প্রার্থীর পেছনে দাঁড়ানো এবং সিপিএমের একজোট হয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে সমর্থন করা—সব মিলিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতার সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। এলাকা জুড়ে এখন পঞ্চায়েত সমিতির এই নতুন প্রশাসনিক বিন্যাস ও ভোটাভুটির পিছনের রাজনৈতিক রসায়ন নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে।