কয়েক দিনের ব্যবধানে সুন্দরীকে হারিয়ে এবার চলে গেল ‘সুন্দর’।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : কুলতলী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:ফের বাঘের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এল ঝড়খালির সুন্দরবন ওয়াইল্ড অ্যানিমেল পার্কে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরপর দুটি বাঘের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবার মৃত্যু হল প্রায় ১৬ বছর বয়সি পুরুষ বাঘ ‘সুন্দর’-এর। শনিবার ভোরবেলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের বন আধিকারিক নিশা গোস্বামীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ দিন ধরে একটি সংক্রমণের কারণে ‘সুন্দর’-এর চিকিৎসা চলছিল। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে বাঘটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার ভোরে মৃত্যু হয় বাঘটির।‘সুন্দর’-এর মৃত্যু শুধু ঝড়খালি পুনর্বাসন কেন্দ্রের জন্যই নয়, বন্যপ্রাণপ্রেমীদের কাছেও অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী। তাদের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুন্দরবন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বন দপ্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে চলেছে। সেই সংরক্ষণ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল আহত, অসুস্থ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা বাঘদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়, মাত্র কয়েক দিন আগেই একই পুনর্বাসন কেন্দ্রে মৃত্যু হয়েছিল ‘সুন্দরী’ নামের একটি বাঘিনীর। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার চলে গেল ‘সুন্দর’। পরপর দুই বাঘের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে এবং বন্যপ্রাণপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি করেছে গভীর উদ্বেগ। যদিও ‘সুন্দর’-এর মৃত্যুর ক্ষেত্রে সংক্রমণজনিত অসুস্থতার কথা জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।প্রায় ১৬ বছর বয়সি ‘সুন্দর’ দীর্ঘদিন ধরে এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিল। বয়সজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি সংক্রমণ তার শারীরিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। গত ১২ দিন ধরে চিকিৎসা চললেও শেষপর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।বাঘের মৃত্যু মানে শুধু একটি প্রাণের মৃত্যু নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণের সহাবস্থানের বৃহত্তর প্রশ্ন। তাই প্রতিটি বাঘের মৃত্যু সংরক্ষণবিদ ও সাধারণ মানুষের কাছে গভীর বেদনার বিষয়।ঝড়খালির পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরপর ‘সুন্দরী’ ও ‘সুন্দর’-এর মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই মন ভারাক্রান্ত বন্যপ্রাণপ্রেমীরা। বন দপ্তরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন। ‘সুন্দর’-এর মৃত্যুতে আবারও মনে করিয়ে দিল—সুন্দরবনের বাঘকে রক্ষা করা শুধু বন দপ্তরের দায়িত্ব নয়, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে আমাদের সকলের সচেতনতা ও দায়বদ্ধতাও সমান জরুরি।