PF-এর ১০০% টাকা তোলা যাবে না? EPFO-র নতুন নিয়ম জানুন

চাকরি চলে গেলে বা চাকরি ছেড়ে দিলে এতদিন অনেক কর্মীর কাছে PF-এর টাকা ছিল জরুরি আর্থিক ভরসা। কিন্তু EPFO-র নতুন নিয়মে সেই টাকা একসঙ্গে পুরোটা হাতে পাওয়ার ক্ষেত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে PF-এর পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নেওয়া যাবে না। অ্যাকাউন্টে অন্তত ২৫ শতাংশ টাকা রেখে দিতে হবে, আর চাকরি ছাড়ার পরে পুরো PF settlement-এর জন্য অপেক্ষার সময়ও ২ মাস থেকে বেড়ে ১২ মাস করা হয়েছে। শুধু PF নয়, EPS বা পেনশন অ্যাকাউন্টের টাকা তোলার ক্ষেত্রেও অপেক্ষার সময় ২ মাস থেকে বেড়ে ৩৬ মাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন এই পরিবর্তন? কর্মীদের হাতে থাকা টাকার ওপর এর প্রভাব কী? আর সত্যিই কি এখন PF-এর ১০০ শতাংশ টাকা আর তোলা যাবে না?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

২৫ শতাংশ টাকা রাখতে হবে কেন?
EPFO-র ২০২৫ সালের Central Board of Trustees-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সদস্যদের PF অ্যাকাউন্টে তাঁদের contributions-এর ২৫ শতাংশ minimum balance হিসেবে রাখা হবে। অর্থাৎ, PF-কে শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় পুরো টাকা তুলে নেওয়ার অ্যাকাউন্ট হিসেবে না দেখে, দীর্ঘমেয়াদি অবসর সঞ্চয় হিসেবেও ধরে রাখার লক্ষ্য রয়েছে। EPFO-র যুক্তি, বারবার PF তুলে নেওয়ার ফলে অনেক কর্মীর অবসরকালীন সঞ্চয় খুব কমে যায়। তাই একদিকে প্রয়োজনের সময় টাকা তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে একটা অংশ ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

ধরুন, আপনার PF অ্যাকাউন্টে মোট ১ লক্ষ টাকা রয়েছে। নতুন withdrawal framework অনুযায়ী, বেকারত্বের মতো পরিস্থিতিতে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ, প্রায় ২৫ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে থেকে যাবে। এই বাকি ২৫ শতাংশও পরে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তোলা যেতে পারে। অর্থাৎ, নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হল- জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলার সুযোগ থাকবে, কিন্তু PF-এর পুরো সঞ্চয় একবারে শেষ করে দেওয়ার সুযোগ সীমিত করা।

চাকরি ছাড়লেই কি সঙ্গে সঙ্গে পুরো PF পাওয়া যাবে?
এখানেই রয়েছে আরেকটি বড় পরিবর্তন। আগে চাকরি ছাড়ার পর ২ মাস অপেক্ষা করে premature final settlement-এর জন্য আবেদন করা যেত। এখন সেই waiting period বাড়িয়ে ১২ মাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র চাকরি ছাড়ার পরেই সঙ্গে সঙ্গে পুরো PF settlement-এর রাস্তা আর থাকছে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- এই নিয়ম সব পরিস্থিতিতে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। EPFO-র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, retirement-এর ক্ষেত্রে ৫৫ বছর বয়সে অবসর, permanent disability বা incapacity to work, retrenchment, voluntary retirement কিংবা স্থায়ীভাবে ভারত ছেড়ে যাওয়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে full withdrawal-এর বিধান রয়েছে।

EPS-এর ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন
শুধু EPF নয়, Employees’ Pension Scheme বা EPS-এর withdrawal benefit নিয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে pension account-এর টাকা তোলার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় ছিল ২ মাস। এখন সেটি বেড়ে ৩৬ মাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পিছনে EPFO-র যুক্তি হল- অনেক কর্মী খুব অল্প সময়ের চাকরির পরই pension accumulation তুলে নেন। ফলে তাঁরা ভবিষ্যতে ১০ বছরের প্রয়োজনীয় EPS membership পূরণ করে pension পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। অপেক্ষার সময় বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি pension security বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কর্মীদের আপত্তি কোথায়?
তবে এই নিয়ম নিয়ে কর্মী ও শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, চাকরি চলে গেলে বা দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকলে PF-এর টাকা অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় আর্থিক নিরাপত্তা। সেই সময় যদি পুরো টাকা হাতে না আসে এবং একটি অংশ দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে থাকে, তাহলে আর্থিক সমস্যায় থাকা পরিবারের উপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, বাড়ির খরচ, ঋণের EMI বা দীর্ঘদিনের বেকারত্বের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত নগদের প্রয়োজন হতে পারে। সেখানেই প্রশ্ন উঠছে- অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে বর্তমানের আর্থিক স্বাধীনতা কতটা সীমিত হচ্ছে?

EPFO-র যুক্তি কী?
অন্যদিকে EPFO-র বক্তব্য, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য কর্মীদের টাকা আটকে রাখা নয়। বরং PF-এর একটা অংশ ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত রাখা। EPFO জানিয়েছে, আগে বারবার PF withdrawal-এর কারণে অনেক সদস্যের retirement corpus খুব কমে যাচ্ছিল। তাই ২৫ শতাংশ minimum balance রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে partial withdrawal-এর নিয়ম অনেক ক্ষেত্রে সহজ করা হয়েছে- minimum service requirement-কে বিভিন্ন withdrawal-এর জন্য ১২ মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং education ও marriage-এর মতো ক্ষেত্রে withdrawal-এর সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।

তাই বিষয়টি শুধু- “PF-এর টাকা তোলা যাবে না” এমন নয়। বরং নতুন কাঠামোয় মূল পরিবর্তন হল- প্রয়োজনে PF-এর বড় অংশ তোলা যাবে, কিন্তু ২৫ শতাংশ minimum balance রাখার ব্যবস্থা থাকবে। আর premature final settlement-এর জন্য চাকরি ছাড়ার পর অপেক্ষার সময় ১২ মাস। EPS-এর ক্ষেত্রে withdrawal benefit-এর waiting period ৩৬ মাস। অর্থাৎ, PF ব্যবস্থায় এখন জোর দেওয়া হচ্ছে দুটি বিষয়ের উপর- জরুরি সময়ে অর্থের সুযোগ এবং ভবিষ্যতের social security- দুটির মধ্যে ভারসাম্য।

সব মিলিয়ে, EPFO-র নতুন withdrawal framework কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে, ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত PF balance ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ২৫ শতাংশ অংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় হিসেবে ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাকরি ছাড়ার পর premature final settlement-এর অপেক্ষার সময় বেড়েছে ২ মাস থেকে ১২ মাস, আর EPS withdrawal benefit-এর ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় হয়েছে ৩৬ মাস। তাই PF-কে শুধু প্রয়োজনের সময় তুলে নেওয়ার টাকা হিসেবে না দেখে, অবসরজীবনের আর্থিক সুরক্ষা হিসেবেও দেখার বার্তাই দিচ্ছে এই পরিবর্তন। তবে চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতিতে কর্মীদের তাৎক্ষণিক নগদের প্রয়োজন কতটা এবং নতুন নিয়ম সেই প্রয়োজনকে কতটা সামলাতে পারবে- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।