অন্নপূর্ণা যোজনায় ফের একগুচ্ছ শর্ত!

গত বুধবার পরিস্কার কয়েকটা তথ্য দিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : একদিকে নিয়ম শিথিল আর অন্যদিকে শর্ত আরোপ। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে হচ্ছে টা কি? প্রশ্নটা তুলেছেন আবেদনকারী উপভোক্তারা। সোশ্যালমাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কমেন্টের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই আশাহত হয়ে কৌতুকের সুরে বলছেন বিজেপি সরকার যতদিন থাকবে ততদিন এই যোজনায় আপডেট হতেই থাকবে। কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে আর কারা পাবে না তা নিয়ে গত বুধবার পরিস্কার কয়েকটা তথ্য দিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যার ফলে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের কারা সুবিধা পাবেন তা অনেকটা পরিস্কার হয়ে গেছে। সেই তথ্যগুলি কি কি। পরিস্কার ভাবে জানাবো আপনাদের। দেখুন এই শর্তের মধ্যে আপনি বা আপনারা পড়ছেন কিনা। আর তো হাতে কয়েকটা দিন তারপরেই তো শেষ হয়ে যাবে আবেদন করার মেয়াদ।

জুলাই মাস পর্যন্ত যত আবেদন জমা পড়ছিল, তার ভেরিফিকেশন পর্ব শেষ হতে চলেছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে উপভোক্তারা প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই টাকা পেয়ে যাবেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করলে মিলবে না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা।
হ্যাঁ এইরকমই নানা শর্ত আরোপ করা হয়েছে এই যোজনায়। আর এখানেই উঠেছে প্রশ্ন। এই শর্তের মধ্যে পড়েন না এমন অনেকেই তো আগেই অন্নপূর্ণায় আবেদন করে বসে রয়েছেন। তার মানে তাদের সব আবেদনই বাতিল? মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। যে মহিলা মাসিক ১০ হাজার বা তার বেশি টাকা উপার্জন করেন, তাঁরা এই যোজনা পাবেন না। অর্থাৎ সরকারি, বেসরকারি যে কোনও ক্ষেত্রে আপনি যদি চাকুরিজীবী হন আর আপনার বেতন যদি ১০ হাজারের বেশি হয় তাহলে এই যোজনা থেকে আপনার নাম বাদ।পাশাপাশি কোনও মহিলা নিজে ১০ হাজারের কম উপার্জন করেন এবং তার পরিবারের কেউ ১০ হাজারের বেশি উপার্জন করে, সেই ক্ষেত্রে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। কিন্তু পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে ওই পরিবারের মহিলাদের প্রকল্পের আওয়াতা থেকে বাদ দেওয়া হবে। একই পরিবারের কতজন মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন তাও পরিস্কার করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি গাইডলাইন্স অনুযায়ী, কোনও পরিবারে একজন থাকতে পারে, দুজন থাকতে পারে অন্নপূর্ণার সুবিধাপ্রাপক। অর্থাৎ গাইডেলাইন অনুযায়ী তাঁরা সকলেই পেতে পারেন ৩০০০ টাকা করে।

এ তো গেল কোন মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন আর আর কারা প্রকল্প থেকে বাদ যাবেন সে সম্পর্কিত তথ্য। আরও কিছু বিষয় পরিস্কার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যেমন অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে কিছু নিয়ম আবার শিথিল করা হয়েছে। যেমন ফর্ম পূরণের সময়ে জানানো হয়েছিল, গআবেদনকারীর পরিবারের বাড়িতে তিনটি ঘর থাকলে, তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। গ্রামীণ এলাকায় সেই নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় তিন কামরার ঘর থাকলেও এই প্রকল্পের সুবিধা অনেকেই পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন অন্নপূর্ণা যোজনায় অনেক মহিলার নাম বাদ গিয়েছিল তিন কক্ষ বিশিষ্ট বাড়ি থাকার জন্য। গ্রামে বসবাসকারী মহিলাদের জন্য ঘরের সংখ্যার কোনও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী মহিলারা যাতে আরও বেশি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পান, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জমির পরিমাণের ক্ষেত্রেও, কলকাতা-হাওড়ার মতো সাতটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫০ ডেসিমলের বেশি জমির মালিক যারা, তাদের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ১৭ অগাস্ট টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে। পুরনো প্রাপকরা তো পাবেন আর যাদের ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হয়ে গেছে তারাও পাবেন টাকা। ওই দিন বিকেল চারটেই সাংবাদিক বৈঠক করে আরও এই বিষয়ে তথ্য দেবেন মন্ত্রী মালতি রাভা। অন্নপূর্ণা যোজনায় বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। বাজেটে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন দেখার আগামী ১৭ অগাস্ট অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন ক সংখ্যক এই প্রকল্পের সুবিধা পান।