বারুইপুর পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগ!

পুরসভার ফান্ড ও লেনদেনে প্রায় ৭ কোটি টাকার বিপুল গরমিলের অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বারুইপুর পুরসভার আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে বিজেপির আনা বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ এবং পুর কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া।
​অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু
আর্থিক অঙ্কের পরিমাণ: পুরসভার ফান্ড ও লেনদেনে প্রায় ৭ কোটি টাকার বিপুল গরমিলের অভিযোগ উঠেছে।
​ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনিয়ম: বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, বারুইপুর পুরসভার ব্যবহৃত মোট ৪২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১৭টিতেই অসংগতি ও আর্থিক অনিয়ম দেখা গিয়েছে।
​বিজেপি নেতার প্রশাসনিক পদক্ষেপ: বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস এই অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জেলা ও রাজ্য স্তরে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন।
​তদন্ত ও ব্যবস্থার দাবি: অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বারুইপুর পুরসভায় অবিলম্বে পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য পুর নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে বিভাগীয় (Departmental) তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।
নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম: বিজেপি নেতৃত্বের সরাসরি নিশানা পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম দাস।
​পুর কর্তৃপক্ষের পাল্টা বক্তব্য ও অবস্থান
​অভিযোগ প্রত্যাখ্যান: বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নির্দিষ্ট তথ্যের দাবি: চেয়ারম্যানের বক্তব্য, কেবল ঢালাও অভিযোগ না করে ঠিক কোন্ খাতে এবং কোন্ অ্যাকাউন্টে কত টাকার অনিয়ম হয়েছে, তা তথ্যপ্রমাণসহ নির্দিষ্ট করে দেখানো উচিত।
কঠোর চ্যালেঞ্জ: তিনি প্রকাশ্যেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন যে, যদি নিরপেক্ষ তদন্তে এই দুর্নীতির অভিযোগ বিন্দুমাত্র প্রমাণিত হয়, তবে প্রশাসন যে কোনো শাস্তি দিলে তিনি তা সহাস্যে মাথা পেতে নেবেন।
​বর্তমানে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর রাজ্য প্রশাসনের তদন্তকারী পদাধিকারীরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন কি না, এবং এই জল কতদূর গড়ায়—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।