ভাঙড় কলেজে আইএসএফ–এবিভিপি সংঘর্ষ, আহত ৮।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ছাত্র সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কলেজ। আইএসএফ এবং এবিভিপি সমর্থক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের মোট আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে কলেজ চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভাঙড় থানার পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে নলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। এবিভিপির অভিযোগ, কলেজের আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপিকার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন তাঁদের সমর্থক ছাত্রছাত্রীরা। সেই সময় আইএসএফ সমর্থকরা বহিরাগতদের এনে তাঁদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। কলেজের ভিতরেই তাঁদের ছাত্র ও ছাত্রীদের মারধর করা হয়েছে বলে দাবি এবিভিপির। সংগঠনের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই কলেজের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, এবিভিপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। পাল্টা তাঁদের দাবি, শান্ত কলেজে বহিরাগত বিজেপি সমর্থকদের এনে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছিল এবিভিপি। কলেজের ভিতরে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়েই প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরে সেই বচসা হাতাহাতি এবং সংঘর্ষের রূপ নেয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে ভাঙড় কলেজের ছাত্র পলাশ মণ্ডলের অভিযোগ, কলেজের ভিতরে পরীক্ষা চলছিল। সেই সময় আইএসএফের কয়েকজন ছাত্র বিভিন্ন কাজে কলেজে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, তখনই এবিভিপি সমর্থক ছাত্ররা তাঁদের উপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। এমনকি বহিরাগত ছাত্রদেরও কলেজের ভিতরে ডেকে আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ পলাশের।
অন্যদিকে, ভাঙড় কলেজের এসএফআই কনভেনার শাহরুখ আক্তারও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বহিরাগতরা কলেজে এসে ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা চালায়। সেই সময় বিজেপির মণ্ডল সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর। শাহরুখের বক্তব্য, নিরস্ত্র ছাত্রছাত্রীদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের কাছে পেন ও খাতা ছাড়া অন্য কিছু থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তবে ঠিক কী কারণে হাতাহাতির সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কলেজের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা, বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং ছাত্র সংগঠনগুলির পারস্পরিক বিরোধ—এই বিষয়গুলিই ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙড় থানার পুলিশ দ্রুত কলেজে পৌঁছয়। বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষের তরফে ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিল, কলেজে বহিরাগতদের প্রবেশ ঘটেছিল কি না এবং কীভাবে পরিস্থিতির অবনতি হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় ফের সামনে এল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিরোধ, বহিরাগত প্রবেশ এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার প্রশ্ন। পড়াশোনার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে। আপাতত পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও কলেজ চত্বরে রয়েছে চাপা উত্তেজনা। অভিযোগের তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।