দিলীপের ‘অন্নপূর্ণা’ মন্তব্য়ে বিতর্ক !

অন্নপূর্ণা নিয়ে ক্ষোভের পিছনে অন্য এক রাজনৈতিক দল। কাকে দায়ী করলেন দিলীপ ঘোষ ?

বিশ্বজিৎ পাল ও ছোটন সেনগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা : দিকে দিকে অন্নপূর্ণা বিক্ষোভ। পাচ্ছেন না টাকা। পঞ্চায়েত. পুরসভ,এসডিও অফিস। বাদ যাচ্ছে না বিডিও অফিসও। কোথাও অন্নপূর্ণার আঁচ পৌঁছে যাচ্ছে বিডিও অফিসের মধ্যেও। চলে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর। দিকে দিকে উঠে আসছে প্রায় একই রকম ছবি। কেউ ভেঙে পড়ছেন কান্নায়, কেউ উগড়ে দিচ্ছেন ক্ষোভ। কিন্তু দিলীপ ঘোষ জানালেন দিকে দিকে এই বিক্ষোভের আসল কারন। রাজ্যে সরকারের কুর্সিতে বিজেপি। তাই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পেলে সচরাচর ক্ষোভ সেই নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধেই হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দিলীপ ঘোষের গলায় এ যে অন্য সুর। অন্নপূর্ণা নিয়ে ক্ষোভের কারন অন্য এক রাজনৈতিক দল। এর জন্য দায়ী নয় বর্তমান রাজ্য সরকার ? কাকে দায়ী করলেন মন্ত্রী?

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলারা। জেলায় জেলায় একই ছবি ধরা পড়ছে। কোথাও রেল অবরোধ তো কোথাও পুরসভার সামনে বিক্ষোভ। অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন শয়ে শয়ে মহিলা।
আসানসোলের কুলটি থানার বরাকরের রামনগর এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে মহিলারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। মহিলাদের অভিযোগ রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিবর্তে রাজ্যের মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়া হবে। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লক্ষী ভান্ডার উপভোক্তাদের প্রায় সকল মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেন।পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি কুলটির বহু মহিলাও এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন। ইতিমধ্যে অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়লেও এখনও বহু আবেদনকারী টাকা পাননি বলে অভিযোগ। সেই ক্ষোভ থেকেই শনিবার বরাকরের রামনগর এলাকায় মহিলারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কুলটি থানার পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।

চারিদিকে অন্নপূর্ণা যোজনায় ক্ষোভ নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, অভ্যাস হয়ে গিয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে। মহিলাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এটাও সবার জানা উচিত, সব সুবিধা সকলের জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকার নানা প্রকল্প করেছে। রাজ্য সরকারও করেছে। তার একটা সীমা আছে। তার জন্য ক্রাইটেরিয়া ঠিক করা আছে। সেই ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে যাঁরা পড়বেন, তাঁরাই পাবেন বলে জানান দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলকে দুষে তিনি বলেন, দানধ্যান সবাইকে দিয়ে অভ্যাস খারাপ করে দেওয়া হয়েছে। এটা চলতে পারে না।
একদিকে অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ার ক্ষোভে রাস্তায় নামছেন মহিলারা, অন্যদিকে সেই ক্ষোভের দায় সরাসরি তৃণমূলের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু রাজনৈতিক তরজা যতই চলুক, প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে সেই মহিলাদের নিয়েই। যাঁরা আবেদন করেছেন, যোগ্যতার মাপকাঠি পেরিয়েছেন, অথচ এখনও অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি প্রতিশ্রুত টাকা। তাহলে তাঁদের অপেক্ষার শেষ কোথায়? বিক্ষোভের আগুন নেভাতে কি মিলবে নির্দিষ্ট উত্তর, নাকি অন্নপূর্ণা নিয়েই চলবে আরও রাজনৈতিক চাপানউতোর? আর মন্ত্রীর যখন এখন মনে হচ্ছে, দানধ্যান সবার জন্য নয়, তাহলে ভোটের আগে কেন দেওয়া হয়েছিল প্রতিশ্রুতি? কেন বলা হয়েছিল সবাই পাবেন ৩০০০ টাকা? তাহলে তখনই তো এই দানধ্যানের বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত ছিল। এমনটাই দাবি করছেন মহিলাদের একাংশ।